৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সবজি চাষে বাম্পার ফলন: কৃষকরা খুশি, তবে সিন্ডিকেটের দাপট

আজগর সালেহী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, বিশেষ করে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী এবং ফটিকছড়ি, এবছর বাম্পার ফলনের সাক্ষী। চাষীরা আলু, মরিচ, মিষ্টি কুমড়া, কিরা, বরবটি, বেগুন, টমেটো, তিতা কড়লা, দেড়শ এবং মূলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তবে, সিন্ডিকেটের কারণে তারা উৎপাদিত সবজি অনুযায়ী সঠিক দাম পাচ্ছেন না, যা তাদের মুখে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।

ফটিকছড়ির মূলা এবার সারাদেশে ‘ভান্ডারী মূলা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ৮/১০ কেজি পর্যন্ত বড় আকারে মূলা ফলেছে, যা কৃষকদের জন্য বেশ লাভজনক। কৃষকরা জানান, হালদার চর, ফটিকছড়ি খালের চর এবং বিস্তৃত বিল অঞ্চলে মূলার চাষ হয়েছে, যেখানে প্রচুর পরিমাণে সবজি চাষ করা হয়েছে।

এবছর বন্যার কারণে কৃষকদের মধ্যে কিছু সংশয় ছিলো, তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি সহায়ক থাকার কারণে চাষের ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষকরা তাতে সন্তুষ্ট। তবে সবজি বাজারে সিন্ডিকেটের দাপট থাকায় তারা কাঙ্খিত মূল্য পাচ্ছেন না। চাষীরা জানাচ্ছেন, যে সবজি তারা ১০ টাকা দামে বিক্রি করতে চায়, তা বাজারে ৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কৃষক হারুন- বলেন, “এইবার আলুর ফলন ভালো হয়েছে। তবে, যে দাম আমরা আশা করছিলাম, তা পাচ্ছি না। বেপারিরা কম দামে সবজি কিনে বাজারে বিক্রি করছে, যার ফলে আমাদের লাভের পরিমাণ খুব কম হচ্ছে।”

হাটহাজারী উপজেলার কৃষক মাওলানা ইসহাক জানান, “আমরা গত বছরও সবজি চাষ করেছি, তবে এবছর আবহাওয়া ভালো থাকার কারণে ফলন অনেক বেশি হয়েছে। তবে সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে আমাদের পণ্য সঠিক মূল্য পাচ্ছে না, যা আমাদের পক্ষে সমস্যার সৃষ্টি করছে।”

ফটিকছড়ির কৃষক ইলিয়াছ বলেন, “ফটিকছড়ি অঞ্চলে মূলা চাষ অত্যন্ত লাভজনক হয়েছে। তবে এই লাভ ভালোভাবে উপভোগ করতে চাই, কিন্তু বেপারিরা আমাদের সবজির দাম কম করে দেয়, এতে আমাদের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।”

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, “এবছর রাঙ্গুনিয়ায় সবজি চাষে ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি হয়েছে, কিন্তু বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। আমরা তাদের সহায়তা করতে কাজ করছি, যাতে তারা তাদের পণ্যের সঠিক মূল্য পায়।”

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, “ফটিকছড়িতে বিশেষ করে মূলার চাষ ব্যাপকভাবে হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদন ভালো হলেও, বাজারে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দামের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

হাটহাজারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন সিকদার বলেন, “হাটহাজারীতে এবছর সবজি চাষে ভালো ফলন হয়েছে, তবে কৃষকদের দাম কম পাচ্ছে, যা এক বড় সমস্যা। আমাদের কৃষকদের সঠিক মূল্য নিশ্চিতে সরকারী উদ্যোগ প্রয়োজন।”

অঞ্চলভিত্তিক কৃষক এবং কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবছর বন্যার কারণে প্রথম দিকে কৃষকদের মধ্যে কিছু সংশয় ছিলো। তবে, আবহাওয়া সহায়ক থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। এলাকার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ জানান, কৃষকদের এই পরিশ্রম এবং ফলনকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত, তবে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সঠিক দাম না পাওয়া একটি বড় সমস্যা, যার সমাধান প্রয়োজন।

কৃষকরা যদি তাদের উৎপাদিত সবজি সঠিক দামে বিক্রি করতে পারেন, তাহলে তারা আরও ভালো ফলন ও লাভ পাবে, যা তাদের জীবিকা নির্বাহে সহায়ক হবে। এই সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সকল স্তরের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়া, কৃষি উৎপাদনে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তি, সেচ ব্যবস্থা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা হলে কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে এবং দেশের কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top