আজগর সালেহী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।
আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে তিনি তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং ২০০১ সালে খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তিনি ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং জাতীয় রাজনীতিতেও তার ভূমিকা ছিল বিশাল।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ আল নোমানের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গও গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।
শোকবার্তায় তারা বলেন, নোমান ভাই ছিলেন দেশ ও জনগণের সেবায় নিবেদিতপ্রাণ একজন নেতা। তার নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তারা প্রয়াতের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।
তার মৃত্যুতে তার পরিবারও গভীরভাবে শোকাহত। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার ছেলে সাঈদ আল নোমান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে দাফনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন একজন নীতিবান ও আদর্শিক রাজনীতিক। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার সাহসী নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তাকে দলের অন্যতম শক্তিশালী নেতায় পরিণত করে।
তার মৃত্যুতে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হলো। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই শোক সইবার শক্তি দিন। আমিন।