মোঃ সাজেল রানা, দৈনিক আমার বাংলাদেশ প্রতিনিধিঃ
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লার চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে উপজেলা ও পৌর বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। তিনি তাঁর বক্তৃতায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান এ দেশের মানুষের সাথে বেঈমানি করেছেন, তার মেয়ে শেখ হাসিনাও ঠিক একইভাবে বাঙালি জাতির সাথে বেঈমানি করেছেন।”
বুলু আরও বলেন, “শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে, অনেক রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে গুম করা হয়েছে, এমনকি তিনি ২৭ হাজার কোটি টাকা নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন। তার বিচার এই বাংলার মাটিতে হবে। হাসিনা যতবারই ফাঁসি পাক, তাও তার বিচার শেষ হবে না।”
তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের অবদানও উল্লেখ করেন। বুলু বলেন, “শেখ মুজিব পাকিস্তানীদের কাছে আত্মসমর্পণ করে আত্মগোপন করেছিলেন। তখন জাতির জন্য নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ ছিল না। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে শহীদ প্রেসিডেন্ট মেজর জিয়াউর রহমান সকল সেনাবাহিনীর সদস্যদের ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ‘আমরা আজ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করছি’ এবং এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।”বুলু চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “শেখ পরিবারের কেউ যদি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের কোনো প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।”
সম্মেলনে চান্দিনা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হিসেবে মো. আতিকুল আলম শাওন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. কাজী আশরাদকে নির্বাচিত করা হয়। এছাড়াও, পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে এবিএম সিরাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাবেক পৌর মেয়র মো. আলমগীর খাঁন নির্বাচিত হন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) হাজী মোস্তাক মিয়া এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. আক্তারুজ্জামান সরকার। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মফিজ উদ্দিন ভূঁইয়া, উপজেলা যুবদল আহবায়ক মাও. আবুল খায়েরসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
সম্মেলনটি প্রায় ৬ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল। প্রায় ১০ হাজার নেতা-কর্মী এতে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্মেলনটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।