মাহমুদুর রহমান নাঈম, ঢাকা প্রতিনিধিঃ
গতকাল নতুন রাজনৈতিক দলকে শুভকামনা জানিয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মসলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা খালেদ সাইফুল্লাহ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারতপন্থী, পাকিস্তানপন্থী, আমেরিকাপন্থী, রাশিয়াপন্থী, চীনপন্থী এক কথায় কোন পন্থী রাজনীতি চলবে না।
আজ (১মার্চ ২০২৫) তিনি একটি বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ সহ তৃতীয় শক্তির দেশগুলোর রাজনীতি মূলত পরিচালনা করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। স্পষ্ট করে যদি বলি তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পূর্ণ আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করে। এই কারণে আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক নেতৃবৃন্দ আমেরিকার করুণার ভিখারী।
ওয়ান ইলেভেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় কিন্তু আমেরিকাই বসিয়েছিল। এরপর ২০১৪ এর ফালতু নির্বাচন এবং ২০১৮ এর রাতের ভোটে গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে আওয়ামীলীগ। গণতন্ত্রের ধজাধারী হিসেবে আমেরিকার কঠিন পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু নেয়নি। কারণ আমেরিকা আর আওয়ামী লীগের মিশন একই ছিল। সেটা হল ইসলাম কোপানো।
বর্তমান চলছে ক্লাশ অফ সিভিলাইজেশনের যুগ। মূল সংঘাতটা হল পশ্চিমা সভ্যতার সাথে ইসলামী সভ্যতার। এই প্রশ্নে আমেরিকার আস্থাভাজন ছিল আওয়ামী লীগ। তাই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছে এবং শত অন্যায় করার পরও আওয়ামী লীগকে উৎখাত করার জন্য সেই রকম পদক্ষেপ নেয়নি যেটা নিয়েছে ২০২৪ সালে। ২০২৪ সালে মূলত স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে আওয়ামী লীগকে জয় বাংলা করেছে আমেরিকা। যদিও ইসলাম কোপানোর প্রশ্নে আমেরিকার সাথে একমত ছিল। আওয়ামী লীগ জয় বাংলা হওয়াতে আমরাও খুশি হয়েছি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এখন ইসলামপন্থীদের উত্থান ঘটেতেছে। রাজনৈতিকভাবে ইসলামপন্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে যাওয়ার উপক্রম। এটা আমেরিকা কোনভাবেই মেনে নেবে না। ইসলামপন্থীদের উত্থান ঠেকাতে মধ্যমপন্থী একটি দলের প্রয়োজন। নতুন দলের বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য না করা গেলেও অনেকটাই স্পষ্ট। নতুন দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা কি হবে? নতুন রাজনৈতিক দলে ইসলামী ভাবধারার নেতৃবৃন্দ থাকলেও কয়েকজনের অন্তর্ভুক্তি খুবই সন্দেহজনক। নতুন রাজনৈতিক দল নিয়ে ইসলামপন্থীদের আশান্বিত হওয়ার মত কিছুই নেই। যারা আশান্বিত হচ্ছেন মূলত না বুঝে হচ্ছেন। আর ইসলামের কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন, এটা হল মাথামোটা টাইপের কথা। ইসলাম তো কারো করুণার পাত্র নয়। ইসলামকে রক্ষা করার জন্য মাকড়সাও জাল বুনে দেয়।
অনেকেই বলবে হুজুরদের কাজই হলো শুধু বিরোধিতা করা। আসলে আপনাদের বিরুধিতা করার কোন প্রয়োজনই নেই। আপনারা আপনাদের মতো করে দল পরিচালনা করেন। আপনারা রাজনীতি করেন। ক্ষমতায় যান। কোন সমস্যা নেই। আমরা আমাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাবো। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, দল করতে গিয়ে আপনি কূটনৈতিক সম্পর্ক আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ভারতের সাথে স্থাপন করবেন কি করবেন না, এটা আপনাদের বিষয়।
তিনি বিশেষভাবে বলেন, কিন্তু পশ্চিমাদের সাথে আমাদের যে সংঘাত এটাও মাথায় রাখবেন। পশ্চিমাদের সাথে আপনি ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারেন। কিন্তু তাদের সভ্যতা সংস্কৃতি এদেশে প্রতিষ্ঠা করতে গেলেই কিন্তু বাধবে সংঘাত। পশ্চিমের কোন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে গেলে, সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবেন। এদেশের মানুষ লুঙ্গি কাঁচা দিয়ে ইসলামের পক্ষে নামে। তাদের ধর্মীয় অনুভূতি কি পরিমাণ এটা মাথায় রাখবেন। আর পশ্চিমা সভ্যতা একটাও মানব সভ্যতার জন্য উপকারী না। পশ্চিমারা কি কি এজেন্ডা নিয়ে মিশনারি কার্যক্রম পরিচালনা করে, এগুলো জানা না থাকলে, জেনে রাজনীতি করার অনুরোধ রইলো।