মোঃ মাঈনুউদ্দিন বাহাদুর, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
অবৈধ ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দিয়েছে দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসিলেন্ড; ড্রেজার মালিক এর ভাইয়ের মিথ্যা মামলায় আসামি হলেন কৃষক দেলোয়ার
কুমিল্লা দেবিদ্বারে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক একটি অবৈধ ড্রেজার মেশিনের পাইপ ধ্বংস করাকে কেন্দ্র করে ড্রেজার মালিকের ভাইয়ের হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলায় ফাঁসছেন দেলোয়ার নামের এক অসহায় কৃষক। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন ওই কৃষকের বিরুদ্ধে অবৈধ ড্রেজার মালিকের দায়েরকৃত মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক। ষড়যন্ত্রকারী ড্রেজার মালিক উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের ১নং ওয়ার্ড এর বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন এবং ভূক্তভোগী কৃষক একই গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেন মামলার বাদী পক্ষের সাক্ষি বাদীর আপন ভাই ও ভাবি নিজ বাড়ির লোকজন।
উল্লেখ্য, সারা দেশে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে ফসলি কৃষি জমির মাটি উত্তোলনের মহাউৎসব চলছে। যার ফলে বিলিন হয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি এবং পরিবেশ হারাচ্ছে তার ভারসম্য। তাই ড্রেজারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সরকার। সরকারের এই কঠোর অবস্থান এর কারনে প্রশাসন কোথাও কোন ড্রেজার চলবেনা মর্মে কড়া বার্তা দেন। এর পরেও যারা নিষেধ অমান্য করে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি উত্তোলন করছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করেন প্রত্যেক এলাকার স্থানীয় প্রশাসন। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামে।
উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন বিগত অনেক দিন যাবৎ অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে এলাকায় ফসলি জমির মাটি উত্তোলন করে পাইপের মাধ্যমে অধিক টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন স্থানে মাটি সরবরাহ করে আসছে। গত ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে গোপন সংবাদ পেয়ে দেবিদ্বার উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার ভূমি রায়হানুল ইসলাম অফিসের লোক ও গ্রাম পুলিশ কে নিয়ে উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন এর ১নং ওয়ার্ডে এসে কৃষি জমিতে চলমান অবৈধ ড্রেজার মেশিনটি ধ্বংস করেন।
পরে, ওই ড্রেজারের মালিক বিল্লাল হোসেন স্থানীয় অসহায় কৃষক দেলোয়ার হোসেনকে প্রশাসনের গোপন সংবাদ দাতা হিসাবে সন্দেহ করেন এবং ঘটনার কয়েকদিন পর প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে তার ভাই মো. হেলালকে বাদি করে ড্রেজার মালিক মোঃ বিল্লাল ও কাওছার কে সাক্ষী করে অসহায় কৃষক দেলোয়ার ও তার ২ ছেলের বিরুদ্ধে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে একটি হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। বিজ্ঞ আদালত যার তদন্ত ভার দেবিদ্বার থানার এস আই অঞ্জন সাহাকে দেওয়া হয়। এস আই অঞ্জন সাহা সঠিক ভাবে বিধি মোতাবেক তদন্ত না করে মামলার অভিযোগ অনুযায়ী অবৈধ ড্রেজার মালিকের পক্ষে বিজ্ঞ আদালত বরাবরে প্রতিবেদন জমা দেয়। যার কারনে মিথ্যা মামলায় অভিযোক্ত নিরপরাধ কৃষক দেলোয়ার এখন নির্বাক।
কৃষক দেলোয়ার কে ড্রেজার মালিক বিল্লাল মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর পায়তারা করছে এমন খবরে যখন এলাকায় তোলপাড় তখন এই মামলার বিষয়ে এস আই অঞ্জন সাহার আদালতে পাঠানো প্রতিবেদনের বিষয়ে জনমনে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। অনেকেই ধারনা করছেন তিনি মোটা অংকের অর্থ পেয়ে আদালতে মিথ্যা তদন্ত রিপোর্ট দিয়ে অবৈধ ড্রেজার মালিক কে বাঁচাতে কৃষক দিন মজুর দেলোয়ার কে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।
উপরোক্ত বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিথ্যা মামলায় অভিযোক্ত মো. দেলোয়ার হোসেন একজন হতদরিদ্র অসহায় ও সহজ-সরল কৃষক। সে জমিতে চাষাবাদ করে তার সংসার চালায়। তার ফসলি জমির পাশের জমিতে ড্রেজার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন ড্রেজার মেসিন লাগিয়ে মাটি উত্তোলন এবং পাইপে সরবরাহ করে দুরদুরান্তে বিক্রয় করতে থাকে। ফলে কৃষক দেলোয়ারের আবাদী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় বিল্লালকে মৌখিক মাটি উত্তোলনে বাধা দিয়েছিলেন। তখন ড্রেজার মালিক বলে আমি সবাইকে ম্যানেজ করেই কাজ করি, বেশি বাড়াবাড়ি করলে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে জেলের ভাত খাওয়াবো। কোন বাধা না শুনে সে নিজের ইচ্ছামতো কৃষি জমির মাটি বিক্রয় করতে থাকে এবং দেলোয়ার কে হুমকি দেয় যে, আমি মাটি কাটতেছি কাটবোই বেশি বাড়াবাড়ি করলে এর ফল ভালো হবেনা। দেলোয়ার ভয়ে আর কিছু বলেনি।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন গোপন সংবাদ পেয়ে বিগত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে ২০২৪ অভিযান চালিয়ে ওই অবৈধ ড্রেজারে মাটি সরবরাহে সম্পুর্ন পাইপ গুলো ধ্বংস করে দেয়। আর তখন বিল্লাল এর ধারনা হয় যে, দেলোয়ার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়ে তার ড্রেজারটি ধ্বংস করিয়েছে। এবং এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করে।
খোঁজনিয়ে আরও জানা যায়, মামলায় উল্লেখিত সকল বিষয়াদী এবং তদন্ত কর্মকর্তার প্রেরিত প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দেলোয়ার কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দেবিদ্বার থানা পুলিশের দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা টাকা খেয়ে মিথ্যা বানোয়াট প্রতিবেদন দিয়ে আমাকে বিপদে ফেলে দিয়েছে, এই মিথ্যা মামলার সঠিক তথ্য উদঘাটন করার জন্য এসিলেন্ড দেবিদ্বার ও গ্রাম পুলিশ নিতাই কে জিজ্ঞাসা করে সঠিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন আশা ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ নিতাই এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ফতেহাবাদ ১নং ওয়ার্ড এর বিল্লাল ও কাওছার এর অবৈধ ড্রেজার আমার সামনে এসিলেন্ড অফিসের লোক আমাকে সাথে নিয়ে খা বাড়ির পাশে সরকারি খালের উপর ও তার পাশে ১ টি কৃষি জমিতে অবৈধ ড্রেজারের সম্পুর্ন পাইপ গুলো ধ্বংস করে দিয়েছেন।
দায়েরকৃত মামলার ৭নং স্বাক্ষী মোঃ হিরন মিয়া বলেন, তাকে জুর করে স্বাক্ষী করেছেন, দেলোয়ার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি সহ ড্রেজার এর পাইপ ভেঙে দেওয়ার আনিত অভিযোগ টা সম্পুর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, গত বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে, সন্ধার পর দেবিদ্বার উপজেলা এসিলেন্ড, পুলিশ ও এসিলেন্ড অফিসের লোক নিয়ে গ্রাম পুলিশ নিতাই সহ ১নং ওয়ার্ড এর খান বাড়ির পাশে কৃষি জমি তে বিল্লাল ও কাউছারের অবৈধ ড্রেজারের সম্পুর্ন পাইপ ভেঙে দিয়ে চলে যায়, তার কিছু দিন পর ড্রেজার মালিক মোঃ বিল্লাল তার ভাই হেলাল কে বাদি করে আদালতে মামলা দিয়ে দেলোয়ার মিয়া কে আসামি করে, আমরা যতটুকু জানি দেলোয়ার মিয়া এধরণের কাজে কোনো ভাবেই জড়িত নয়।
মামলার বাদী মোঃ হেলাল সহ তারা ৩ ভাই মিলে ফতেহাবাদ ১ নং ওয়ার্ড এর খান বাড়ির দক্ষিণ পাশে সরকারি খালের দুই পাশের পার সহ কেটে পুকুরে পরিনত করেছে, এ বিষয়ে পুলিশ কোনো প্রতিবেদন না দিয়ে, ড্রেজার মালিক মোঃ বিল্লাল ও কাওছার হেলাল থেকে মোটা অংকের অর্থ পেয়ে নিরীহ কৃষক দেলোয়ার ও তার ২ ছেলে কে বানোয়াট প্রতিবেদন দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে, যেখানে সরকারি খালের দুই পাশের পার সহ অবৈধ ড্রেজার মাটি কেটে বিক্রি করে অপরাধ করেছে বাদীপক্ষ সেদিকে পুলিশ এর পক্ষ থেকে কোনো নজর নাই।
সঠিক তদন্ত করে সরকারি খালের মাটি বিক্রি করার বিষয় টি সরজমিন তদন্ত করে সঠিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়ে বাদীপক্ষ কে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
দেবিদ্বার থানার এস আই মোক্তার এর সাথে মোঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসিলেন্ড মহোদয় এর সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি তিনি তার লোক দিয়ে ড্রেজার টি ধংস করে দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী দেলোয়ার মিথ্যা মামলা খেয়ে সরাসরি দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম এর সাথে দেখা করে উক্ত মামলার বিষয় নিয়ে কথা বলেন, তিনি সবকিছু শুনে অবৈধ ড্রেজার ভাংগার বিষয়ে এসিলেন্ড জানান, আমি গত ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে গোপন সংবাদ পেয়ে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন এর ফতেহাবাদ ১ নং ওয়ার্ডে খান বাড়ির পাশে কৃষি জমি তে মোবাইল কোর্ট এর মাধ্যমে অবৈধ ড্রেজার টি সম্পুর্ন পাইপ ধংস করে দিয়েছি। আমি সহকারি সার্কেল অফিসারকে ফোন দিয়ে বলে দিবো এই ব্যপারে দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অবৈধ ড্রেজার মালিকের মামলায় উল্লেখিত বিষয়টি এবং এর স্বপক্ষে দেবিদ্বার থানা পুলিশের দায়িত্ব প্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি সঠিক নয়।