আনারুল ইসলাম রানা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় স্ট্রবেরি চাষ করে বিপাকে পড়েছেন দুই প্রবাস ফেরত কৃষক। দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করলেও কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বিনিয়োগ ও চাষের শুরু
উপজেলার বজরা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বালু চরে প্রবাস ফেরত দুই তরুণ উদ্যোক্তা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক ও হারুনুর রশিদ ১২ একর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন। অ্যাসেট অ্যাগ্রো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তারা ছয়টি জাতের সাড়ে তিন লাখ স্ট্রবেরি চারা রোপণ করেন। শুরুতে চাষের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও বর্তমানে হতাশা গ্রাস করেছে তাদের।
ফলন কম, লোকসানের শঙ্কা
আব্দুর রাজ্জাক জানান, “অনেক স্বপ্ন নিয়ে চাষ শুরু করেছিলাম। আশা ছিল, স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করব। কিন্তু চারার গুণগত মান খারাপ হওয়ায় আমাদের আশায় গুড়েবালি। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রতি একরে ১০ টন ফলন, কিন্তু সেটি অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন লাভ তো দূরের কথা, দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ৫ লাখ টাকারও ফলন হবে না।”

কৃষকদের হতাশা
ক্ষেতে কাজ করা কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, “আমি ও আরও দুইজন শ্রমিক এখানে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করি। আমরা যত্ন নিয়ে চারা গাছগুলো বড় করেছি, কিন্তু ফলন না আসায় এখন সবাই হতাশ।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নুর ইসলাম বলেন, “স্ট্রবেরি ক্ষেত দেখে মুগ্ধ হয়েছি, কিন্তু কৃষকদের কষ্ট ও লোকসানের কথা শুনে খারাপ লাগছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সহযোগিতা থাকলে হয়তো তারা এত ক্ষতির মুখে পড়তেন না।”
কৃষি বিভাগের প্রতিক্রিয়া
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আমরা উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তাদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়েছি। কুড়িগ্রামের আবহাওয়া স্ট্রবেরি চাষের জন্য উপযোগী। তারা যদি সফল হন, তাহলে জেলার অন্যান্য কৃষকদের জন্যও স্ট্রবেরি চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
কৃষকদের মতে, সঠিক চারা নির্বাচন ও কৃষি বিভাগের আরও সক্রিয় সহযোগিতা পেলে তারা এই লোকসানের শিকার হতেন না। সরকারের সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে স্ট্রবেরি চাষ নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারবেন তারা।