সার্জান খাঁন, নিজস্ব প্রতিবেদক
আর মাত্র একটি ভাঙ্গন হলেই চেঙ্গেরখাল নদীর গর্ভে হারিয়ে যাবে কলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ঈছাকলস ইউনিয়নের কলাপাড়া যোগীর গাও গ্রামের চেঙের খাল নদীর তীরে অবস্থিত। চেঙ্গের খাল নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে বিদ্যালয়টির পাকা ভবনের একটি দেয়াল। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। হয়তো দু-একদিনের মধ্যেই পুরো ভবন রাক্ষুসে চেঙ্গের খালের পেটে চলে যেতে পারে বলে জানান স্থানীয়রা। তাই চরম আতঙ্ক ও উৎকন্ঠায় রয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জানা গেছে স্কুলটি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।৪ জন শিক্ষক শিক্ষিকা ও ১০২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে হাওর এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে অবদান রেখেছে চলেছে বিদ্যালয়টি।২০০৮-০৯ অর্থবছরে ২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি পাকা ভবন নির্মিত হয়। এর দীর্ঘদিন আগে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি টিনশেডের ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল।
একই সাথে হুমকির মুখে পুরো যোগীর গাও গ্রামের শতাধিক ঘর বাড়ি ও ফসলি জমি। নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা চরম উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। এভাবে ভাঙ্ন অব্যাহত থাকলে বিলিন হয়ে যেতে পারে পুরো গ্রাম। এছাড়া মসজিদ মাদ্রাসা সহ রাস্তাঘাটও একসময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ভাঙ্গনের হাত থেকে জনবসতি সহ সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।অন্যথায় অবর্ণনীয় ক্ষতির মুখে পড়বে এই এলাকার বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানান, বিদ্যালয় আসতে আমাদের খুবই ভয় করে। আর একটু ভেঙে গেলেই বিদ্যালয় আর থাকবে না। আমরা মজবুত বেড়িবাঁধসহ বিদ্যালয়ে পাকা ভবন চাই। যাতে আমরা নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারি।
এবং এই এলাকার মানুষ নির্বিঘ্নে বসবাস করতে পারে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল আউয়াল বলেন,
চেঙ্গের খালের অব্যাহত ভাঙ্গনে বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুবই চিন্তিত আছি। কলাপাড়া স্কুলের সাথে অত্র উপজেলার ২৩ টি বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অধিদপ্তর থেকে তালিকা এসেছে এর মধ্যে কলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি। এর প্রেক্ষিতে ২০১৯/২০ সালে ভবন নির্মাণের জন্য মাটি পরিক্ষা করা হয় অদ্যবধি ভবন নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এই তালিকায় থাকা কয়েকটি স্কুলের কাজ হচ্ছে কিন্তু কলাপাড়া স্কুলের কাজ হয়নি।
স্কুল এর শিক্ষার্থীরা বলেন স্কুল নদীতে ডুবে গেলে আমরা পড়ব কোথায়?