রিফাজ বিশ্বাস লালন, পাবনা প্রতিনিধিঃ
ঈশ্বরদী উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আসনা গ্রামে সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে আদিলা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এসময় আগুনে তার দুই সন্তানসহ ৫জন আহত হয়েছে। নিহত আজেলা খাতুন কৃষক জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী। এ ছাড়া সাত কৃষকের বাড়ি আসবাবপত্রসহ ভস্মিভূতসহ মারা গেছে ১২টি ছাগল ও হাঁস-মুরগি। আজ বুধবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে আসনা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঈশ্বরদী শহর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সদস্য ও এলাকাবাসীর চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ও দমকল বাহিনীর ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মীর আমিরুল ইসলাম জানান, আমরা বেলা ১১টা ২০ মিনিটে মোবাইলে খবর পাই। এরপরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এসে আগুন নিভাতে কাজ করেছে।
স্থানীয়রা জানান, আজ দুপুরে সাঁড়া ইউনিয়নের ফুটবল মাঠের পাশে আসনা গ্রামে কৃষক জিয়াউলের বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এলাকাটি ঘনবসতি হওয়ায় দ্রুতই আগুনের লেলিহানশিখা একে একে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কৃষকের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাবাসী আগুন নেভাতে চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী, নাটোরের লালপুর ও পাবনারসহ ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন ইউনিট এসে আগুন নেভাতে অংশ নেয়। এরপর দুপুর ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সাঁড়া ইউনিযনের বাসিন্দা আবুল জানান, আগুন লাগার পরপরই স্থানীয় মানুষজন নেভাতে সচেষ্ট হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে পাশে গ্যাসের চুলাও ছিল।
তিনি আরও জানান, আগুন লাগার পর নিজ শোবার ঘরে আটকা পড়েছিল তার দুই শিশুসন্তান। এদের একজন তিন বছর ও আরেকজনের পাঁচ বছর বয়স। আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমেই আদেলা খাতুন তার ঘর থেকে বের হয়ে যান। এরপর যখন দেখেন তাদের সন্তান নেই, তারা ওই ঘরে আটকা পড়েছে, তখনই তিনি দু’জনকে আগুন থেকে বাঁচাতে অগ্নিদগ্ধ ঘরের ভেতরে যান ও দুজনকে উদ্ধার করে বাইরে আনলেও আগুনের পুরো শরীর দগ্ধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উন্মুক্ত জায়গা নিয়ে আসার আগেই তিনি মারা যান।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। আগুনে পুড়ে আদিলা খাতুন নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে দাফনের জন্য গৃহবধূর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুবীর কুমার দাশ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
