মোঃ বাদশা প্রামানিক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
রংপুরে আত্মগোপনে থাকা নীলফামারি-১(ডোমার ডিমলা) আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১২,৩০ টায় রংপুর মহানগরীর নিউ সেনপাড়ার(সেনপাড়া স্কুলের সামনের) আত্মীয়ের বাড়ির তিন তালার একটি ফ্লাট থেকে তাকে গ্রেফতার করে মহানগর পুলিশ কমিশনার মাজেদ আলী নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল।
মহানগর পুলিশ কমিশনার মাজেদ আলী জানান, গেল বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই আফতাব উদ্দিন সরকার নগরীর সেনপাড়ার ওই ফ্লাটের তিন তালার একটি রুম ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নীলফামারী -১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি।
তিনি আরও জানান, সাবেক এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ৪ আগস্ট রংপুর রাজা রামমোহন ক্লাবের সামনে গুলিতে নিহত পথচারী মাহমুদুল হাসান মুন্না হত্যা মামলার আসামি। এই মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকেও রংপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রতিহত করতে অর্থের যোগান দানসহ অবৈধভাবে দেশীয় অস্ত্রসহ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার, বলপ্রয়োগ, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, হামলা ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে নীলফামারীর ডিমলা থানায় মামলা নং ২৬, তারিখ ২৮-০৯-২০২৪ইং এবং নীলফামারী সদর থানার হত্যা চেস্টা মামলা নং২২, তারিখ ১৭-০৯-২৪ইং মামলা হয়। রংপুরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কোতয়ালী থানায় নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে তোলা হবে,

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হন। একই আসন থেকে এরপর আরও দুইবার এমপি নির্বাচিত হন তিনি।এছাড়া বিগত ১৬ বছরে এলাকায় ত্রাসের রাজ্য কায়েম করার জন্য তার আপন ভাতিজা পারভেজ এর নেতৃত্বে আগুন খাওয়া বাহিনী নামে একটি বাহিনী গড়ে তুলে। যে বাহিনী এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতোরাজ,মাদক ব্যবসা, ভারতীয় গরুর সিন্ডিকেট,টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য ইত্যাদির মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজ্য কায়েম করেছিল। এলাকার এমন কেউ নাই তাদের এই সব কাজে বাধা প্রদান করতে পারে।প্রশাসন ছিল তাদের হাতের মুঠোয়, কেউ বাধা দিতে গেলে প্রকাশ্যে তাকে ভিটেমাটি ছাড়া করত প্রশাসন নিরব চোখে তাকিয়ে দেখতো। এছাড়াও বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন, নিপীড়নের প্রচুর অভিযোগ রয়েছে তার নামে। ডিমলা থানার প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মামলার কারণে ১৬ বছরে তাদের নিজ বাসায় থাকতে পারেনি। দিনের পর দিন তারা নিজ এলাকা থেকে অন্য এলাকায় পালিয়ে বেরিয়েছে। এলাকার অনেকেই বাইরে থাকার কারণে টাকার অভাবে ঢাকা, কুমিল্লা ও সিলেটে গিয়ে রিক্সা, ভ্যান, ইজিবাইক চালিয়েছে, আবার কেহ কেহ মজুরিও করেছে।