রুবেল ফরাজী, শিবচর প্রতিনিধিঃ
মাদারীপুরে বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় আপন দুই ভাইসহ মোট ০৩ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ মার্চ) উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের সরদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮ জন।
নিহতরা হলেন আতাউর রহমান সরদার (৩৫), সাইফুল ইসলাম (৩০) ও তাদের চাচাতো ভাই পলাশ সরদার। তাঁদের মধ্যে আতাউর ও সাইফুল সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের সরদার বাড়ি এলাকার আজিবর সরদারের ছেলে। এর মধ্যে সাইফুল খোয়াজপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। আর পলাশ একই এলাকার মুজাম সরদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সদর উপজেলার খোয়াজপুর টেকেরহাট এলাকার মোল্লা বাড়ি ও সরদার বাড়ির মাঝামাঝি এলাকায় বালু তোলা নিয়ে দুই বংশের লোকজনের মধ্যে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার জেরে শনিবার সকালে মোল্লা বাড়ির লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সরদার বাড়িতে হামলা চালান। প্রতিপক্ষের হামলা থেকে বাঁচতে সাইফুল ও তাঁর আরও দুই ভাই বাড়ির সামনে একটি মসজিদে আশ্রয় নেন। পরে হামলাকারীরা মসজিদের মধ্যে ঢুকে তিন ভাইকে কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে হামলায় আহত হন আরও দুজন। পরে হামলাকারীরা আতাউর ও সাইফুলের বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান।
ওসি মোকছেদুর রহমান জানিয়েছেন, এই ঘটনায় এর মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নিহতদের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে দাফনের জন্য পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান ওসি। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৮০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বালু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অবৈধ কার্যক্রম কঠোর হাতে দমন করা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় মাদারীপুর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।