মোঃ নাঈম মল্লিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি শহরের প্রাণকেন্দ্র ডাক্তার পট্টিতে (স্বর্ণকার পট্টি) দুর্ধর্ষ ডাকাতির চেষ্টা করেছে ডাকাত দলের সদস্যরা। রবিবার সন্ধ্যায় ইফতার চলাকালীন সময়ে বোমা বিস্ফোরণে ঝালকাঠি শহর কেঁপে উঠে। এসময় সাতটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট এর গ্লাসে ২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গ্লাস বেদ করে গুলি বের হয়ে যায় কিন্তু গুলিতে কেহ আহত হয়নি। বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতরা একটি মিনি পিকআপ করে শহরের সাধনা মোড় হয়ে ফায়ার সার্ভিস চাদকাঠি হয়ে ঝালকাঠি বরিশাল সড়কে উঠে ষাইট পাকিয়া হয়ে বরিশালের দিকে চলে যায়। এসময় তারা ফায়ার সার্ভিস মোর, জেলা পুলিশ লাইনের সামনে, ষাটপাকিয়া স্টান্ড সহ বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ ও স্থানীয়রা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। এতে ২ জন পুলিশ সদস্য সহ ৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিদর্শন করেছে। ঝালকাঠি শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ডাক্তার পট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা ব্যবসায়ীরা জানান, মাগরিবের নামাজের পর । সবাই ইফতার করছিল। তখন হঠাৎ বিকট আওয়াজ হলে সবাই দোকান থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। ডাকাত দলের সদস্যরা পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করলে সবাই আতঙ্কে দোকান আটকে তাদেরকে ধাওয়া দেয়। এ সময় তারা রাস্তায় ককটেল ফাঠাতে ফাঠাতে পালিয়ে যায়। দোকানদার ও স্থানীয় জনগণের ধাওয়া-খাওয়ার কারণে কোন দোকানে তারা ডাকাতি করতে পারেনি।
এ ঘটনায় শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে বাড়তি । নিরাপত্তার জন্য চেক পোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়াও পুলিশ ও সেনা সদস্যরা টহলে রয়েছে।
এদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি করার জন্য এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য ডাকাতি চেষ্টা বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছে। জেলা বিএনপি এই ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে এই ধরনের অরাজকতা ও অপকর্ম প্রতিরোধ করবে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, মাগরিবের নামাজের সময় তারা শহরের ডাক্তার পট্টি এলাকায় ডাকাতির চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তারা ককটেল বিস্ফোরণ করতে করতে পালিয়ে যায়। শহরে বাড়তি পুলিশ ও সেনার সদস্যরা টহলে রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানের সিসি ফুটে যাচাই করে তাদেরকে সনাকর চেষ্টা চলছে।