৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৮ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আমের মুকুলে ভরে গেছে চট্টগ্রামের বাগান, ভালো ফলনের জন্য করণীয় কী?

আজগর সালেহী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে, আমের গাছ মুকুলে ছেয়ে গেছে। বিশেষ করে কৃত্রিম পদ্ধতিতে চারা গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় আমবাগানগুলোতে মুকুলের সমারোহ নজর কেড়েছে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, প্রতিবছর প্রচুর মুকুল আসলেও নানা রোগবালাই ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক সময় আশানুরূপ ফলন হয় না। বিশেষ করে অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক গৃহস্থ সঠিক পরিচর্যা করতে পারেন না।

দেশীয় আমের চাহিদা প্রতি বছরই ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্বাদু, সুগন্ধ ও পুষ্টিগুণের কারণে বাংলাদেশে উৎপাদিত আম দেশজুড়ে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, আম্রপালি ও আশ্বিনা জাতের আম বাজারে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই আমের কদর রয়েছে। এছাড়া, রপ্তানির ক্ষেত্রেও দেশীয় আমের চাহিদা বাড়ছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হলে কৃষকরা ভালো মূল্য পেয়ে থাকেন। তবে সঠিক সংরক্ষণ ও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের উন্নয়ন হলে দেশীয় আমের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

আমের মুকুলের পরিচর্যা যেভাবে করবেন:
মুকুল আসার পর নিয়মিত গাছের গোড়ায় পানি দিতে হবে, তবে বেশি পানি দিলে শিকড় পচে যেতে পারে।
গাছে প্রয়োজনীয় পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হবে। বোরন ও জিংকযুক্ত সার প্রয়োগ করলে মুকুলের ঝরে পড়া কমে।
ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে, তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করাই উত্তম।
বাগানের আশপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি, যাতে কোনো রোগবালাই দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে।

বেশি ফলন পেতে যা করবেন:
আম গাছের বয়স ও জাত অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
ফুল ফোটার সময় যেন পানি স্বল্পতা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
অতিরিক্ত মুকুল আসলে কিছু মুকুল ফেলে দিতে হবে, যাতে পুষ্টি ভাগাভাগি না হয়ে গুটির গঠন ভালো হয়।
বাগানে পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো পৌঁছায় কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

পোকা থেকে বাঁচাতে করণীয়:
আম গাছের বড় শাখা-প্রশাখায় মাঝে মাঝে কীটনাশক স্প্রে করতে হবে।
ফল মাছি ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা দমন করতে ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করা যেতে পারে।
আমের মুকুলে মাকড় বা অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা দেখা গেলে নিম তেল বা জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।
পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশি হলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আম গাছে মুকুল আসার পর যত্ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রামে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন প্রয়োজন চাষিদের সচেতনতা ও নিয়মিত পরিচর্যা।

এবিষয়ে উপজেলা পর্যায়ে কৃষি সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করলে চাষিরা কীটনাশকের সঠিক ব্যবহার, রোগবালাই দমন, সার ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী প্লট স্থাপন ও ডিজিটাল প্রচারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশীয় আমের উৎপাদন বাড়াবে, কৃষকের আয় বৃদ্ধি করবে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top