৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত দৌলতদিয়া ঘাট, থাকবে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ীঃ

দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসাবে পরিচিত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট। তবে এখন নাই ঘাটের সেই জৌলুস, আগের মত সেই যানবাহনের লম্বা সারি এবং যাত্রী ও হকাড়দের হাকডাক। পদ্মা সেতু চালুর আগে ঈদ মৌসুমে ২৪ ঘন্টায় দৌলতদিয়া প্রান্ত দিয়ে ৫ থেকে ৭ হাজার যানবাহন পদ্মা নদী পারাপার হলেও সে সংখ্যা এখন কমে এসেছে অর্ধেকে। বর্তমানে দৌলতদিয়া প্রান্তের ৭টি ফেরি ঘাটের মধ্যে সচল রয়েছে (৩, ৪ ও ৭) এই ৩টি ঘাট এবং পাশাপাশি লঞ্চ ঘাট। বর্তমানে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন (২৪ ঘন্টা) দেড় থেকে দুই হাজার ছোট-বড় যানবাহন নদী পারাপার হলেও ঈদে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় কয়েক গুন। ফলে বাড়তি চাপ সামাল দিতে আগে ভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের উভয় ঘাট কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসন। আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরে অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে এবার এই নৌ-রুটে চলাচল করবে ছোট বড় ১৭টি ফেরি ও ২২টি লঞ্চ।

এছাড়া রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া প্রান্তে লঞ্চ ঘাটের পাশাপাশি ফেরি লোড-আনলোডে ৭টি ফেরি ঘাটের মধ্যে চালু থাকবে ৩টি ঘাটের ৮টি পকেট। এদিকে, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকাসহ সড়কের গুরুত্বপূর্ন স্থানে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, মলম পার্টি, যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে থাকবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সহ জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত এবং মৌসুমি টিকেট কাউন্টার ও অবৈধ যানবাহনেও করা হবে নজরদারি। এছাড়া ঘাট এলাকার সড়কে করা হবে আলোকসজ্জা।

যাত্রীরা বলেন, পদ্মা সেতু চালুর আগে ভোগান্তি থাকলেও এখন দৌলতদিয়ায়
ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুত ভোগান্তি তেমন নাই। ঘাট কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক ভাবে দ্বায়িত্ব পালন করলে আশা করছি এবার ঈদে কোন ভোগান্তি হবে না। তবে ছিনতাই, মলমপার্টি সহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর থাকতে হবে।

বেশ কয়েকটি যানবাহনের চালকগণ বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর এখন আর আগের মত ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয় না। তবে ঈদের সময় যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে সব গুলো ফেরি ঠিকঠাক ভাবে চালালে ভাল ভাবে পারাপার হতে পারবো। কিন্তু এবার ৩টি ফেরি ঘাটে চাপ সামলাতে পারবে না এবং এর কারণ ফেরি একটি আনলোড হয়, আরেকটি এসে অপেক্ষা করে। এ অবস্থায় ঘাট ক্লিয়ার না থাকলে সময় মত যাত্রীদের আনা-নেওয়া করা সম্ভব হবে না। এতে তো ভোগান্তি বাড়বে। ফলে ফেরির সাথে ঘাটও বাড়াতে হবে এবং ঠিকঠাক ভাবে চালাতে হবে। তাহলে কোন ভোগান্তি হবে না।

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ম্যানাজার আবুল হাশেম বলেন, ঈদে যাত্রী সুষ্ঠ ভাবে পারাপারে আমাদের এই রুটে ২২টি লঞ্চ চলাচল করবে এবং প্রতিটি লঞ্চের ফিটনেস ঠিক আছে। পাশাপাশি প্রশাসনসহ বিআইডব্লিউটিএ এর কর্মকর্তারা ঘাট এলাকায় থাকবে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ঈদের আগে ও পরে ঘরমুখো ও কর্মমুখি মানুষ পারাপার নির্বিঘ্ন করতে প্রায় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা খুব কম। যানবাহনের চাপ অনুযায়ী ১০ থেকে ১২টি ফেরি চালাচ্ছি। তবে ঈদে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপ সামাল দিতে এই রুটে ১৭টি ফেরি চলাচল করবে এবং ফেরি ঘাট চালু থাকবে ৩টি। আশা করছি এর মাধ্যমে যাত্রীরা নিরাপদে পারাপার হতে পারবে।

রাজবাড়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) শরীফ আল রাজীব বলেন, দৌলতদিয়া ঘাট দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাট। ঈদে দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ ও যানবাহন এই ঘাট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসা-যাওয়া করে। সে দিক বিচেনায় ঈদের আগে ও পরে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন এবং যাত্রী হয়রানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, মলম পার্টি রোধে রাজবাড়ী জেলা পুলিশ কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি সার্বক্ষনিক গোয়েন্দা নজদারি অব্যাহত থাকবে। আশা করছি যাত্রী সাধারনের সহযোগিতায় এবার ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top