লালন, ঈশ্বরদী প্রতিনিধি:
ঈশ্বরদীর বিখ্যাত বেনারসি শিল্প। কিন্তু বেনারসি তাঁতিরা এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন। বন্ধ তাতঁ চালুর কথা ভাবছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান কমে যাওয়ায় এবারের ঈদকে সামনে রেখে ঈশ্বরদীর বেনারসি তাঁতগুলো ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
শহরের ফতেমোহাম্মদপুরে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লী ও এর আশপাশের তাঁতগুলো ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন, তাঁত মালিক ও তাঁতিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬৫ সালের আগে থেকেই ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুরে কাতান-বেনারসি শাড়ি তৈরি হতো। এখনকার বিহারিরা ছিল এর মূল কারিগর। ৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ঈশ্বরদীতে পর্যায়ক্রমে বেনারসি তাঁত কারখানা গড়ে ওঠে। এখানকার উৎপাদিত ঐতিহ্যবাহী কাতান-বেনারসি শাড়ি-কাপড়ের ব্যাপক কদর ছিল রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে। দেশের বাইরেও পাঠানো হতো এসব বেনারসি শাড়ি। পরে চাহিদার বিবেচনায় বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের পক্ষ সহযোগিতায় ফতেমোহাম্মদপুরে ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লি কারখানা স্থাপন করা হয়- যা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেনারসি পল্লি। বর্তমানে বেনারসিপল্লিসহ ফতেমোহাম্মদপুরে প্রায় ৫০০ তাঁত রয়েছে- যার অধিকাংশই বন্ধ বা খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে। এ শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত দুই সহস্রাধিক নারীপুরুষ শ্রমিক। তাদের অনেকই এখন বেকার। কেউ পেশা বদলেছেন।

তাঁতিরা জানান, যুগযুগ ধরে চোরাচালনের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরে অবাধে ভারতীয় শাড়ি-কাপড় আমদানি হওয়ায় ঈশ্বরদীর বিখ্যাত বেনারসি তাঁতিশিল্প চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই পুঁজি হারিয়ে কারখানা বন্ধ দেন। নাদিম নামে এক তাঁতি বলেন, ভারতীয় শাড়ি অনুপ্রবেশ ও আমদানির কারণে বাজারে বেনারসি শাড়ি বিক্রি হতো না। এরইমধ্যে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আশাব্যঞ্জক ভাবে চোরাচালান প্রায় বন্ধ। চোরাইপথে শাড়ি কাপড় আমদানি কমে গেছে। আরেক শ্রমিক বলেন, চোরাইপথে শাড়ি কাপড় আমদানি কম যাওয়ায় ঈদ ঘিরে দেশের বিভিন্ন হাট-বাজার, বিপনি-বিতান ও শপিংমলে দেশীয় উৎপাদিত পণ্যসহ কাতান-বেনারসি ও কারচুপির কারুকার্য খচিত শাড়ির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় এবার ঈদ সামনে রেখে প্রচুর বেনারসি শাড়ি উৎপাদন ও বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তাঁতি বলেন, দেশে ভারতীয় শাড়ি কাপড়ের আমদানি ও রং-সুতার অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাজারে ঈশ্বরদীর বেনারসি শাড়ির চাহিদা কমে যাওয়ায় শিল্পটি ঝিমিয়ে পড়েছিল। অনেকেই বেনারসির কাজ ছেড়ে অন্য কাজে চলে যান।
ঈশ্বরদী বেনারসি পল্লির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহ জামান জানান, বেনারসি তাঁতশিল্পের অবস্থা বেশ নাজুক। ইতিমধ্যে অনেক তাঁত বন্ধ হয়েছে। এরমধ্যে বেনারসি পল্লীর ছয়টি কারখানার মধ্যে চারটি কারখানা চালু রয়েছে। তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে তাঁতিরা নতুন আশা নিয়ে কারখানায় কাজে আসছেন।