৩রা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

বগুড়ায় পরীক্ষামূলক ভাবে চাষ হচ্ছে জিরা

সজীব হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি:

জিরা বাংলাদেশিদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ এ মশলাটি পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করতে হয়।জিরা আমাদের দেশে সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর মসলা ফসল হলেও কৃষক পর্যায়ে সফল জিরা চাষাবাদ আশার আলো দেখাচ্ছে। অবশেষে সকল প্রতিকূলতা পার করে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় কৃষক পর্যায়ে সফল ভাবে চাষ হচ্ছে মূল্যবান মসলা ফসল জিরা। অতি সম্প্রতি মসলা গবেষণা কেন্দ্রর বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এ দেশে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদের উপযোগী জিরার জাত আবিষ্কার হয়েছে। বারি জিরা-১ নামে জিরার জাতটি জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক ২০২২ সালে অনুমোদিত হয়। এরপর স্বল্প পরিসরে পরীক্ষা মূলক ভাবে কৃষক পর্যায়ে চাষাবাদ শুরু হয় এ জাতের জিরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতাধীন মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রদর্শনী আকারে কৃষক পর্যায়ে সফল চাষাবাদ সম্পূর্ণ হয়েছে এ জাতের জিরা। চাষকৃত বারি জিরা-১ বাজারের জিরা অপেক্ষা অধিক সুগন্ধি। উপজেলার দুটি স্থানে জিরা চাষ হচ্ছে। একটি মোকামতলা ইউনিয়নের মুরাদপুরে ও দেউলী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। সরেজমিনে উপজেলা দেউলী ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষক সাইফুল ইসলাম তার চাষকৃত ১০ শতাংশ জমি থেকে জিরা গাছ উত্তোলন করছে। প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ভরপুর জিরা। কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, সফল ভাবে জিরা চাষ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। জিরা গাছগুলো উঠিয়ে রোদে শুকানো পর জিরা মাড়াই ঝাড়াই করবো। আশা করছি প্রতি শতকে ১.৫ থেকে ২ কেজি জিরা পাবো। এখান থেকে যে জিরা পাওয়া যাবে তা বীজ হিসেবে ব্যবহার করবো আমরা। উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের রহবল ব্লকে কর্মরত উপসহকারী কৃষি অফিসার মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, শত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে সফল ভাবে জিরা চাষাবাদ করতে পেরেছি আমরা।

তিনি আরও বলেন, বারি জিরা-১ শীতকালীন জিরা হওয়ার কারণে উপযুক্ত সময়ে বীজ বপন খুবই জরুরী। এ জিরার জীবনকাল ১১০-১২০ দিন। এ জাতের জিরার বীজ বপনের উপযুক্ত সময় নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে তৃতীয় সপ্তাহ। শীতকালে আমাদের দেশে যখন বাতাসে আর্দ্রতার শতকরা হার বেড়ে যায় তখন গাছে অল্টারনারিয়া ব্লাইট এবং গোড়া পচা রোগের আক্রমণ বেশী হয়ে থাকে। এ কারণে সফল ভাবে চাষাবাদ করতে প্রতিরোধক হিসেবে নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জাতের জিরায় সেচ খুব কম দরকার হয়।প্রতিটি গাছে ফুল ফল চলে এসেছে।কোন ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা না আসলে আগামী এক মাসের মধ্যে জিরা সংগ্রহ করা যাবে। উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হান্নান বলেন, শিবগঞ্জে মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী আকারে জিরার চাষাবাদ হচ্ছে। জিরার চাষাবাদ স্বল্প পরিসরে হলেও আমাদের বাস্তবায়িত প্রদর্শনী থেকে উৎপাদিত জিরা বীজ হিসেবে ব্যবহার করে আগামী মৌসুমে এর আবাদ এলাকা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। এর আগে উপজেলায় জিরা চাষ হয়তো না আমরা মটিভিশনের মাধ্যমে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং এবার জিরার প্রদর্শনী প্লট মোটামুটি ভালো আছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top