৩১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, খুন্তি পুড়িয়ে সৎ মেয়েকে ছ্যাঁকা দিলেন মা

মোহাম্মদ নয়ন, ভোলা প্রতিনিধিঃ

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার বিরোধকে কেন্দ্র করে রাফিয়া নামের ৪ বছর বয়সী এক শিশুর শরীরে খুন্তি পুড়িয়ে ছ্যাঁকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সালমা আক্তার নামের এক সৎ মায়ের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৪নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে ভোলা ২৫০ শস্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নির্যাতিত শিশুটির বাবা জসিম মাঝি পেশায় একজন জেলে। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, রাফিয়ার জন্মের কয়েকমাস পর তাঁর প্রথম স্ত্রী (রাফিয়ার মা) রাহিমা বেগম মারা যান। পরে তিনি সালমা আক্তার নামের আরেক নারীকে বিয়ে করেন। সালমা একজন ডিভোর্সি নারী ছিলেন এবং তাঁর আগের সংসারে একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। জসিমের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর তাঁর আরেকটি কন্যা সন্তান হয়। রাফিয়াসহ ৩ সন্তান নিয়ে সালমা জসিমের বাড়িতেই থাকেন।

প্রায়ই সালমার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে জসিমের ঝগড়াঝাটি হতো। এরই জের ধরে গত ৯ এপ্রিল সৎ মা সালমা আক্তার রাফিয়াকে মারধর করে। বাবা জসিম এর প্রতিবাদ করলে তাঁর অনুপস্থিতিতে ১২ এপ্রিল বিকেলে লোহার খুন্তি আগুনে পুড়িয়ে শিশুটির সমস্ত শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। রাতে দেরি করে বাড়ি ফেরার কারনে বাবা জসিম বিষয়টি টের পাননি। সকালে শিশুটির রক্তমাখা জখম শরীর দেখে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, ‘প্রায়ই সৎ মা সালমা আক্তার শিশুটিকে নির্মম নির্যাতন করে। সৎ মায়ের নির্যাতনে শিশুটি উচ্চস্বরে কান্নাকাটি করে। রাস্তা দিয়ে যেকেউ হেঁটে গেলে শিশুটির অমানবিক কান্নার শব্দ কান পর্যন্ত পৌঁছায়।
প্রতিবেশীরা বলছেন, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার বিরোধ নিয়ে তাঁর ই প্রতিশোধ নিতে সালমা আক্তার শিশুটিকে এভাবে অমানবিকভাবে মেরেছে। আমরা সালমা আক্তারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
ভোলা ২৫০ শস্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ শেখ সুফিয়ান রুস্তম বলেন, আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে শিশুটির চিকিৎসা দিচ্ছি। আশাকরি শিশুটি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবে।
জানতে চাইলে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি কেউ পুলিশকে অবগত করেনি। আমরা খোঁজ নিচ্ছি

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top