৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আমতলীতে পায়রা নদীতে অভিযানে জেলেদের হামলায় তিন মৎস্য কর্মকর্তা আহত

মানাফি ইসলাম নাজমুল, বরগুনা প্রতিনিধি :
অবৈধ জাল উদ্ধারে বিশেষ কম্বিং অপারেশন আমতলী উপজেলা মেরিন ফিসারিজ অফিসার, তার সহযোগী ও পুলিশের ট্রলারের ওপর জেলেদের হামলায় তিন মৎস্য কর্মকর্তা আহত হয়েছে। জেলে সোহেল মিয়ার নেতৃত্বে ২০-২৫ জন জেলে এ মামলা করেছে বলে এমন অভিযোগ করেন উপজেলা মেরিন ফিসারিজ অফিসার মোঃ অলিউর রহমান। তিনি আরো অভিযোগ করেন জেলে সোহেল ও এনায়েত আমাদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে।

ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাতে পায়রা নদীতে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ।
জানাগেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পায়রা নদীর দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী, আড়পাঙ্গাশিয়া ও পশুরবুনিয়া এলাকায় জেলেরা অবৈধ বেহুন্তিজাল ফেলে মাছ শিকার করে আসছেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার বিকেলে উপজেলা মৎস্য অফিসের মেরিন ফিসারিজ অফিসার, তার সহযোগী ও পুলিশের একটি টিম পায়রা নদীতে অবৈধ জাল উদ্ধার অভিযানে যান। অভিযানে তারা নদী থেকে তিনটি অবৈধ বেহুন্তিজাল উদ্ধার করেন।

ওই সময় জেলে সোহেল মিয়া উপজেলা ফিসারিজ অফিসারকে মুঠোফোনে জাল উদ্ধারে নিষেধ করেন কিন্তু তার টিম জাল উদ্ধার বন্ধ করেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে জেলে সোহেল মিয়া ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন জেলে তিনটি ট্রলারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মৎস্য অভিযানের ট্রলারের ওপর হামলা করে। জেলেরা তাদের ট্রলারে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে মৎস্য অফিসের ফিল্ড ফেসিলিটেটর ইসরাত হোসেন হিমেল, আরিফুল ইসলাম ও দীপাঙ্কর পাইক আহত হয়।

জেলেদের হামলা থেকে রক্ষায় তারা কিনারে ফিরে আসেন। পরে উদ্ধারকৃত তিনখানা বেহুন্তি জাল রাতেই পুড়িয়ে ফেলা হয়। আহত তিনজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আমতলী উপজেলা মৎস্য অফিসের ফিল্ড ফেসিলিটেটর ইসরাত হোসেন হিমেল বলেন, অবৈধ জাল উদ্ধার কালে জেলে সোহেল মিয়ার নেতৃত্বে আমাদের ট্রলারে হামলা করেছে। এতে আমিসহ আরিফুর রহমান ও দীপাঙ্কর পাইক আহত হয়েছি।

আমতলী থানার এএসআই মোঃ জসিম উদ্দিন সিকদার বলেন, জেলে সোহেল ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন জেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের অভিযানের ট্রলারের ওপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। তিনি আরো বলেন, তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।

আমতলী উপজেলা মৎস্য অফিসের মেরিন ফিসারিজ অফিসার মোঃ অলিউর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পায়রা নদীতে অভিযানে যাই। এ সময় জেলে সোহেল মিয়া আমাকে মুঠোফোনে অবৈধ বেহুন্তিজাল উদ্ধারে নিষেধ করে।

আমি তার নিষেধ উপেক্ষা করে জাল উদ্ধার করায় অভিযানের ট্রলারের ওপর তার নেতৃত্বে তিনখানা ট্রলার দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ট্রলারে হামলা করেছে। পরে অভিযান বন্ধ করে কিনারে এসেছি। তিনি আরো বলেন, উদ্ধারকৃত তিনখানা জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। জেলেদের হামলায় আমার তিনজন সহকর্মী আহত হয়েছেন। আমতলী থানার ওসি মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন, অভিযানের ট্রলারে যে সকল জেলে হামলা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, হামলায় জড়িত জেলেদের চিহিৃত করে সরকারী দেয়া সকল অনুদান বন্ধ করা হবে। আমি ঢাকায় থাকায় আইনি ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) তারেক হাসান বলেন, বিষয়টি জেনেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top