তরফদার মামুন, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, যারা পি আর পদ্ধতি চান,খুব ভালো কথা। তাহলে জনগণের কাছে যান। জনগণকে বোঝান, জনগণ যদি মেনে নেয় আলহামদুলিল্লাহ। জনগণ যেটি রায় দিবে সবাই মেনে নিবে।
আমাদের জানতে ইচ্ছা করে যে,বাংলাদেশের সংবিধানে কোথাও কি স্বৈরাচার হওয়ার কথা কী লেখা ছিল? দেশটাকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করার চেষ্ঠা করেছেন, দোষ তো তাদের। দোষ তো সংবিধানের নয়। সংবিধানে তো ভাল ভাল কথা লিখা ছিল।
শনিবাব(২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজার শিল্পকলা একাডেমীতে পৌর বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।
ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বর্তমানে আপনারা(জামায়াতসহ অন্যান্যদল যারা পি আর চায়) যে ভাবে আলোচনা চলা অবস্থায় ,যখন আলোচনা চলছে। ঐক্যমত কমিশন আপনাদের সাথে কথা বলছে। আমরা দেখছি পত্র পত্রিকায়। আপনারা সেই সময় রাজনৈতিক কর্মসূচী দিয়ে মাঠে ডুবে গেলেন । আপনারা এটি কি বুঝাতে চান ? আপনারা কী সংঘাতের দিকে যেতে চান? আপনারা কী জনগণের মতামতকে কী গুরুত্ব দিতে চান না? আপনারা কী আলোচনার টেবিলকে অবিশ্বাস করতে চান? না কি আপনারা অন্য কিছু চান? আপনার কি নির্বাচনটা পিছিয়ে যাক সেটি চান? আজকে তেরো মাসের জায়গায় চৌদ্দ মাস শুরু হয়েছে। চৌদ্দ মাসেও এই দেশে জাতীয় নির্বাচন মধ্য ফেব্রুয়ারী হবে কি হবে না সেইটা নিয়ে মানুষের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
ডা: জাহিদ আরও বলেন- আগামী নির্বাচনকে আশঙ্কাজনক ভাবে আগামী মধ্য ফেব্রুয়ারীর পরবর্তীতে চলে যায় এইরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে এবং স্বৈরাচারের ক্রীড়ানক হয়ে বাংলাদেশে দয়া করে স্বৈরাচারের ফেরত আসার পথ কে সুগম করবেন না। অনৈক্য থেকে যদি বের হয়ে না আসতে পারেন আর সেই ফাঁক দিয়ে যদি স্বৈরাচার ঢোকে যায় এর দায় দায়িত্ব জাতি একদিন এর জন্য আপনাদের দায়ী করবে। মনে রাখতে হবে দয়া করে স্বৈরাচার ফেরত আসার পথকে সুগম করবেন না’।
মৌলভীবাজার পৌর বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ মমশাদ আহমদের সভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো.আব্দুর রহিম রিপনের পরিচালনায় প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বলেছেন জি কে গউছ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দীকি, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক এমপি এম নাসের রহমান।
সম্মেলনের উদ্বোধক জেলা বিএনপির আহবায়ক মো.ফয়জুল করিম ময়ূন।
এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ভিপি মিজানুর রহমান, জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মৌলভী আব্দুল ওয়ালী সিদ্দিকী ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মুকিত।
সম্মেলনের শুরু হওয়ার আগে জেলা বিএনপির আহবায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দকে নিয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
এদিকে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষে বিকেল চারটারদিকে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। কাউন্সিল অধিবেশনে গোপন ব্যালটে নেতৃত্ব নির্বাচিত করার জন্য পৌর বিএনপির সভাপতি,সিনিয়র সহ সভাপতি,সম্পাদক,সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোট ১৬ জন প্রার্থী অংশ নেন।
মৌলভীবাজার পৌরসভার মোট নয়টি ওয়ার্ডে ৬৩৯জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার উৎসবমূখর পরিবেশে প্রয়োগ করছেন। দীর্ঘ দিন পর গোপন ব্যালটে গনতান্ত্রিক পরিবেশে বিএনপির আগামীর নেতৃত্ব নির্বাচিত করার দায়িত্ব পাওয়াতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা উৎসবমূখর পরিবেশে কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ভোট দিচ্ছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ শেষে গণনা চলছে।