মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি।
আর মাত্র ১ দিন পর শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবকে ঘিরে জেলার মৃৎশিল্পীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে এখন চলছে রঙতুলির আঁচড়ে দেবী দুর্গা ও অন্যান্য প্রতিমাকে সাজিয়ে তোলার কাজ। পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নীলফামারীর ছয় উপজেলার মোট ৮৪৭টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদরে ২৮২টি, ডিমলায় ৭৬টি, ডোমারে ১০৫টি, জলঢাকায় ১৮২টি, কিশোরগঞ্জে ১২২টি এবং সৈয়দপুরে ৮০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
কারিগর অতুল চন্দ্র রায় জানান, “খড়, কাদামাটি, পাটের আঁশ, কাঠ, রশি ও বাঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। এখন নিখুঁতভাবে রংতুলির আঁচড়ে প্রতিমাগুলো সাজানো হচ্ছে।”
মণ্ডপে মণ্ডপে দুর্গাদেবীর পাশাপাশি গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, কার্তিক, মহিষাসুর, সিংহ ও মহাদেবের প্রতিমা রঙিন রূপে সাজানো হচ্ছে।
শহরের হাড়োয়া মহল্লার দেবির ডাঙ্গা মন্দির, মিলনপল্লী সার্বজনীন দুর্গামন্দির, বড়বাজার পূজামণ্ডপ, কালিতলা, ডাইলপট্টি, বাহালীপাড়া জমিদারবাড়ি, রামনগর পূজামণ্ডপসহ বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ হয়ে এখন চলছে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার কার্যক্রম।
বড়বাজার পূজামণ্ডপের পুরোহিত মহেশ গাঙ্গুলী জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর শ্রীশ্রী দুর্গাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পূজা শুরু হবে। এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর মহাসপ্তমী, ৩০ সেপ্টেম্বর মহাঅষ্টমী, ১ অক্টোবর মহানবমী এবং ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীয় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পূজা শেষ হবে।
পুরোহিত মিন্টু কুমার ভট্টাচার্য বলেন, “জুলাই থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এখন চলছে নকশা ও রঙের কাজ। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও সক্রিয় রয়েছেন।”
দুর্গোৎসবকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে মণ্ডপ কমিটির সঙ্গে বৈঠক হয়েছে।
নীলফামারী সদর থানার ওসি এম আর সাঈদ বলেন, “প্রতি মণ্ডপে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় নিশ্চিত করা হয়েছে।”
জেলা পুলিশ সুপার এ.এফ.এম তারিক হোসেন খান জানান, “ছয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের সমন্বয়ে মণ্ডপভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।”
এ ছাড়া সরকারিভাবে ৪২৩ দশমিক ৫০০ মেট্রিক টন চাল মণ্ডপভিত্তিক সহায়তা হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১৪৫ মেট্রিক টন, জলঢাকায় ৮৫ মেট্রিক টন, কিশোরগঞ্জে ৭২ মেট্রিক টন, ডোমারে ৪৬ দশমিক ৫ মেট্রিক টন, ডিমলায় ৩৮ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ও সৈয়দপুরে ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ হয়েছে।
পুরোহিতরা জানিয়েছেন, এ বছর দেবী দুর্গা গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন, যা শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে বিদায় হবে দোলায় (পালকি), যা অশুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা আহ্বায়ক প্রবীর গুহ রিন্টু বলেন, “আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে।”
সব মিলিয়ে নীলফামারী জেলায় মণ্ডপে মণ্ডপে এখন সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা আর ভক্তিমূলক পরিবেশে চলছে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাণের উৎসবের প্রস্তুতি।