মনির হোসেন, সখিপুর (টাংগাইল) প্রতিনিধি:
টাংগাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া পূর্বপাড়ার বিধবা ফিরোজা বেগম স্বামী আবুতালেবের মৃত্যুর পর থেকেই জীবনের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন। একসময় সংসারে ছিল স্বামী-সন্তান আর নিত্যদিনের হাসি-আনন্দ, কিন্তু স্বামীহারা হওয়ার পর সবকিছু ভেঙে পড়ে।
বর্তমানে তিনি একটি ভাঙা মাটির ঘরে বসবাস করছেন। বৃষ্টি হলেই ঘরে পানি পড়ে, দুর্ভোগ নেমে আসে। নিরাপদ রান্নাঘর না থাকায় কখনো খোলা আকাশের নিচে, আবার কখনো ভাঙা চালের নিচে কষ্ট করে রান্না করেন। বয়সের ভারে ক্লান্ত হলেও ফিরোজা বেগমের একমাত্র স্বপ্ন—একটি নিরাপদ ঘর ও বিশুদ্ধ পানির টিউবওয়েল।
তার এই দুরবস্থার কথা জেনে সম্প্রতি সখিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল রনি মহোদয় সরেজমিনে গিয়ে ফিরোজা বেগমের বাড়ি পরিদর্শন করেন। তিনি সরকারি তহবিল থেকে নতুন ঘর তোলার জন্য টিন, খাদ্যসামগ্রী, ৯ হাজার টাকার চেক এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করে দেন। এ ছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মেম্বার মামুন ও মেম্বার সাইফুল ইসলাম ১০ হাজার টাকা ও কাঠ দিয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন।
এ সময় ইউএনও একই গ্রামের সাইফুল ভাইয়ের বাবার আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানও পরিদর্শন করেন এবং সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
ফিরোজা বেগমের এই জীবনসংগ্রাম আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় সমাজের অবহেলিত মানুষদের বাস্তবতা। আর প্রশাসনের মানবিক এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, যদি প্রতিটি উপজেলায় এমন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা থাকেন, তবে অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে এবং সমাজ আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।
উক্ত সময়ে উপস্থিত ছিলেন কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জামাল মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোতালেব সিকদার বাবুল, ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, যুবদল নেতা মিজান আল নূর এবং প্রেসক্লাবের সাংবাদিকবৃন্দ।