১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৮শে শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ধর্মচর্চা নিয়ে ট্রল, ট্রেন্ডিংয়ে আবেদ আলী

প্রশ্নফাঁসকারী সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে পুরো দেশেজুড়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এই গাড়িচালক রীতিমত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। একজন গাড়িচালক হয়েও আবেদ আলী ও তার ছেলে সিয়ামের বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলে নেটিজেনরা শেয়ার করছেন বিভিন্ন স্ট্যাটাস।

বিশেষ করে ফেসবুকে বিভিন্ন সময় তার নামাজের ছবি, মানবিক গল্প ও সততার বাণী দেয়ার পোস্ট গুলো নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা।

এর মাধ্যমে সকলের কাছে এখন স্পষ্ট, অসৎ ও অসাধু পথ অবলম্বন করেই অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন এ গাড়িচালক। এতে আবেদ আলীর মতো অসৎ ব্যক্তিদের নিয়ে ধিক্কারে ফেটে পড়ছে নেটদুনিয়া। ইতোমধ্যে আবেদ আলীর আগের ছবিগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে সাধারন নেটিজেনদের টাইমলাইনেও।

একটি ছবিতে দেখা যায় কুয়াকাটায় সৈয়দ আবেদ আলী। গত ১৯ মে তার ছেলে সিয়াম ছবিটি শেয়ার করে লেখেন, ‘আব্বু কুয়াকাটা গিয়েছিল একটা ব্যবসায়িক সফরে, সেখানে স্থানীয় এক ছোট ভাই ছবিটি তুলে ইনবক্সে দিলো।

সাধারণত আব্বু কোন ওয়াক্তের নামাজ অবহেলা করে না, যখন যেখানে থাকে তখন সেখানেই পাক-পবিত্র জায়গা খুঁজে নামাজ আদায় করে নেয়। খুব সম্ভবত সৃষ্টিকর্তার প্রতি গভীর ভালোবাসা না থাকলে এটা সম্ভব নয়। আল্লাহ আমার বাবাকে কবুল করুক।’

অপরদিকে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে সৈয়দ আবেদ আলীর ছবিটি তিনি নিজেই গত ২ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন।

তৃতীয় ছবিটি তোলা হয় প্লেনে। ৩১ মে’র আরেকটি ছবিতে সৈয়দ আবেদ আলীকে একই পোশাকে ছেলের সঙ্গে দেখা যায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ছবিটি তুলেছেন সিয়াম নিজেই।

শিল্পী লুৎফর হাসান এই গাড়িচালকের গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে সিজদারত একটি ছবিসহ পোস্ট শেয়ার করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

কিছু প্রশ্ন ছুঁড়ে তিনি লিখেছেন, ‘শুনেছি তিনি অনেক টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারি অফিসারের ড্রাইভার হয়ে কেন এত টাকা, এ নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। কারো টাকা থাকতেই পারে। সেসব নিয়ে কথা যারা বলার বলবেন।

আমার কথা হচ্ছে, নামাজ পড়লে সেটা তার অজান্তে তার ছেলে কিভাবে তুলল? আবার অজান্তে তুলে ফেলার পর সেই ছবি তিনি অজান্তে কিভাবে ফেসবুকে পোস্ট দিলেন? এই দেশে এত আলৌকিক ঘটনা কিভাবে ঘটে? কেন ঘটে? আমরা এইসব অলৌকিকতার ধারেকাছে যেতে পারি না কেন? কেন আমরা গড়পড়তার জীবন কাটাই? কেন? কেন? কেন?’

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বাসিন্দা আবেদ আলী। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসার পরই তার বিপুল সম্পদের তথ্য বেড়িয়ে আসছে। ছেলে ছাত্রলীগ নেতা, পড়েছেন বিদেশে, এরপর দেশের একটি ব্যয়বহুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকার ভেতর তার দুটি বহুতল ভবন, মাদারীপুরে আলিশান বাড়ি রয়েছে এমন তথ্যও সামনে এসেছে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top