২রা জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৩ই রজব, ১৪৪৭ হিজরি

লালমনিরহাটে টানা ৫ দিন পর রোদ, কৃষকের মনে জাগালো আশার আলো

রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে টানা ৫ দিন অদৃশ্য ছিল সূর্যের আলো। ঘন কুয়াশা কনকনে ঠান্ডা শীতের কারণে থমকে গিয়েছিল শ্রমজীবি মানুষের জীবন জীবিকা কৃষি কাজ,সহ- সকল পেশার মানুষের কর্মব্যস্ততা। গতকাল বুধবার সকাল থেকেই যেন নতুন প্রাণ ফিরে এসেছে লালমিরহাট জেলার শ্রমজীবি মানুষের মনে।

বুধবার (৩১ডিসেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলার পাঁচ উপজেলার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেলো কৃষকের এই কর্মব্যস্ততা।

শীতের তীব্রতা কনকনে হিমেল হাওয়া স্থবিরতা এবং নীরবতা কাটিয়ে আজ সকালে উজ্জ্বল রোদ উঠতেই মাঠে ফসলের প্রস্তুতি ও জমির পরিশোধন নিয়ে সজাগ হয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

টানা এক সপ্তাহ ধরে কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশা ও রাতে আবেগঘন শীতের কারণে লালমনিরহাটের অধিকাংশ ফসলি মাঠে গত কয়েকদিন জমির কাজ প্রায় স্থগিত ছিল। কৃষকদের মুখে কখনো যেন হাসি ছিল না। সেই অচল সময় কাটিয়ে আজ আবার কর্মব্যস্ততায় কাজ চলছে মাঠ। কৃষি কার্যক্রমে ফের এই সক্রিয়তা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

মাঠে কর্মরত কৃষি শ্রমিকের বর্ণনা অনুযায়ী, সকাল থেকেই লালমনিরহাটের বিভিন্ন গ্রামের মাঠে কৃষকরা ল্যান্ড লেভেলিং,বীজতলা পরিচর্যা অন্যান্য শস্য ক্ষেতের পরিচর্যা করছেন। এদিকে জমির স্তর সমান করা বীজতলা ঘেড়া সেচ ব্যবস্থা পর্যালোচনায় করে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমজীবি মানুষ ও খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রমিকগন।

দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ দিনে সূর্যের আলো, আজ আবার উঠে এসেছে আকাশে — যা কৃষকদের জন্য এক অপূর্ব সুখ বার্তা বহন করে নিয়ে এলো কৃষকের মুখে হাঁসি।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় কৃষক মো. মমতাজ মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “গত কয়েকদিন রোদ ছিল না। জমি কাদা এবং কুয়াশায় মাখানো অবস্থায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। আজ রোদ উঠলেই সবাই আবার জমিতে নেমেছি। রোদ আমাদের জন্য নতুন শক্তি ও আশা।”

লালমনিরহাট জেলার আবহাওয়া পরিস্থিতি:বর্তমান আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, লালমনিরহাটে হালকা থেকে মাঝারি রোদ এবং ধোঁয়াশা মিলিয়ে দিনটি কাটছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ১৮°–২০° সেলসিয়াস পর্যন্ত ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, আর রাতের তাপমাত্রা প্রায় ১২° সেলসিয়াস এর আশেপাশে৷ থাকতে পারে । শীতের মাঝেও কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন লালমনিরহাট জেলার কৃষক সমাজ।

শীতের প্রতিকূলতার পরেও কৃষকের দৃঢ়তা:শীতের প্রভাবে গত কয়েকদিন ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে ফসলের ক্ষতি, জমির কাজ ব্যাহত ও সেচ প্রক্রিয়া দেরিতে হয়েছিল।

স্থানীয় কৃষি তথ্য কর্তৃপক্ষ বলছেন, “এই পর্যায়ে সূর্য উঠলে ফসল রোপণ, সার প্রয়োগ ও জলবদ্ধতার সমাধানে কাজ দ্রুত এগোতে পারে, যা বোরো ও আমন ভূট্টা,আলু গম রবি শস্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে” বলে তারা মনে করছেন।

সেই সাথে কৃষক সমাজের সঙ্গে আস্থা ফিরে আসায় শিশুরা থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত মাঠের দিকে আগ্রহী নজর করছে। অনেকেই আজ সকালেই দায়িত্ব নিয়ে জমিতে দাঁড়িয়ে কাজে নেমে পড়েছেন – যেন নতুন প্রজন্মও এই আবহাওয়ার পরিবর্তনে আশা খুঁজছে।
হাতিবান্ধা উপজেলার সানিয়াজন গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, রোদ উঠছে আমাদের যে গাছগুলো এখন সঠিকভাবে বেড়ে উঠবে। তার প্রস্তুতি নেওয়া খুব জরুরি।”

“শীতের পরে আবার কর্মব্যস্ততা ফিরে আসায় আমরা প্রত্যাশা করছি ফসলের ভালো ফলন হবে।” স্থানীয় মহিলা কৃষক রোকছানা বেগম।

পাটগ্রামের রফিক উদ্দিন বলেন রোদ উঠেছে, মাঠে গিয়ে ভূট্টা ক্ষেতের পরিচর্যা করতে হবে। টানা শীতে কাবু ছিলো পাটগ্রাম উপজেলার জনপদ। আজকের সূর্য, আরো ফুঁটে উঠায় সকলের মনে নতুন আশার আলো জেঁগেছে। পাটগ্রাম উপজেলার মাঠ আজ যেন উৎসাহ ও প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

কালীগঞ্জ উপজেলার ওসমান আলী বলেন, শীতের তীব্রতা এতবেশী ছিলো টানা ৬/৭ দিন মাঠে গিয়ে কাজ করতে সাহস পাইনি ঠান্ডার কারণে। সূর্যের আলো ফুঁটে উটায় আজ কর্মব্যস্ত হযে পরেছে স্থানীয় কৃষকরা। দিনের রোদে কাজে নেমে নিজেদের ফসলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আদিতমারী উপজেলার রিক্সা চালক হরে কান্ত বর্মনের সঙ্গে আলোচনা হলে তিনি বলেন, কয়েকদিন ঠান্ডার কারণে রিক্সা নিয়ে বের হতে পারিনি খুবি কষ্টের মধ্যে ছিলাম বউ,বাচ্চাদের নিয়ে। আজ সকালে রোদ উঠেছে তাই মনের আনন্দে রিক্সা চালাচ্ছি, লোকসমাগমও বেশী ভাড়াও পাওয়া যাচ্ছে বেশী বেশী।

সদর উপজেলার ভ্যানচালক ঝন্টু মিয়ার সাথে আলোচনা হলে তিনি বলেন, গত কয়েক দিন প্রচন্ড কনকনে ঠান্ডাশীতে হাত,পা, শীতল হয়ে আসছিলো,ভ্যান চালাতে না পেরে ভীষণ অভাবে ছিলাম।মহান আল্লাহ পাকের দয়ায় আজ রোদে উঠেছে ভাড়াও অনেক বেড়েছে রোজগার হবে ভালো ঘরে শান্তি ফিরবে ইনশাল্লাহ।

এ ব্যপারে লালমনিরহাট জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক রকিব হায়দারের সঙ্গে আলোচনা হলে তিনি দৈনিক আমার বাংলাদেশ রংপুর বিভাগীয় সাংবাদিক কে বলেন, আজকের আবহাওয়া বিগত কয়েকদিনের চেয়ে অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। রোদ উঠেছে,কৃষকদের দুঃসময় কেটে গেছে। উজ্বল রোদে কৃষকের মনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জমিতে সশ্য উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে। আজ তাপমাত্রা ও আবহাওয়ার অনেকটা ভালো। তবে এটা আবার দৈনিক পরিবর্তিত হতে পারে, তাই কৃষিকাজের সময় আবহাওয়া তথ্য নিয়মিত জানা জরুরি।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top