মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়ি তিস্তা জলাধার খনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর বিরোধ বুধবার বিকেলে সহিংস সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। যৌথ বাহিনীর উপস্থিতিতেই উত্তেজিত জনতা একটি আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনো ধরনের জমি অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই তিন ফসলি জমিতে খননকাজ শুরু করায় এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে হাজার হাজার পরিবারকে বাস্তুচ্যুত করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

এলাকাবাসীদের নিয়ে গঠিত ‘জনগোষ্ঠী’ নামের সংগঠনের মুখপাত্র আব্দুল আলিম বলেন,
“বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু প্রশাসন সেটিকে উপেক্ষা করে বুড়ি তিস্তা খননের নামে মাঠে নেমেছে, যা এলাকাবাসীকে ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজিত করেছে। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের আইনি জটিলতায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ঘটনা সাজিয়ে বিপদে ফেলতে চাওয়া হচ্ছে।”
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও কার্যকর হস্তক্ষেপ না করায় উত্তেজনা আরও বাড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ জনতা নিকটবর্তী একটি আনসার ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায়। সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন; আহতদের মধ্যে স্থানীয় সাংবাদিকও রয়েছেন।
এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, “রাষ্ট্রীয় শোক চলমান থাকায় আগামী তিনদিন খননকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরও কেন কাজ শুরু করা হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে হবে। তারাই এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, খনন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের স্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। প্রশাসনের ভূমিকা ও যৌথ বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।