মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই নীলফামারী জেলার সাধারণ মানুষের কাছে একজন জনবান্ধব, মানবিক ও কর্মমুখী প্রশাসক হিসেবে সুপরিচিতি অর্জন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। মাঠপর্যায়ে সরাসরি সম্পৃক্ততা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে তিনি প্রশাসনের প্রতি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আস্থা পুনর্গঠনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, শীতের তীব্রতায় যখন ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, তখন নীলফামারী ও সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন, ফুটপাত ও বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থানরত ছিন্নমূল মানুষ এবং তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে বসবাসকারী শীতার্তদের জন্য জেলা প্রশাসক নিজ তত্ত্বাবধানে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেন। এই কার্যক্রমে কোনো আনুষ্ঠানিকতার পরিবর্তে মানবিক স্পর্শই ছিল প্রধান।
একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে হঠাৎ পরিদর্শনের মাধ্যমে সেবার মান যাচাই, দায়িত্বহীনতা ও অনিয়ম রোধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। এসব পরিদর্শনের ফলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে জবাবদিহিতা ও সেবার মান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে তদারকি, সাধারণ মানুষের জরুরি অভিযোগ তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তি এবং সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি একজন দায়িত্বশীল প্রশাসকের পাশাপাশি মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসনের উচ্চ পদে থেকেও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কেবল আশ্বাসে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
শহরের বয়স্ক নাগরিক তসলিম উদ্দিন বাবু বলেন, “তিনি শুধু অফিসে বসে থাকেন না, মানুষের মাঝে আসেন। আমাদের কথা শোনেন, সমাধান করেন। এমন জেলা প্রশাসক আগে পাইনি।”
জেলার শিক্ষা সহায়তা, সামাজিক কার্যক্রম এবং দুস্থ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে তিনি কেবল জেলা প্রশাসক হিসেবেই নয়, বরং একজন মানবিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে নীলফামারীর মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, “আমি প্রশাসক হিসেবে নয়, মানুষের সেবক হিসেবেই কাজ করতে চাই। নীলফামারীর প্রতিটি মানুষের সমস্যা সমাধান ও সার্বিক উন্নয়নই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এই মানবিক, স্বচ্ছ ও কর্মমুখী প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে নীলফামারী জেলা উন্নয়ন ও জনবান্ধব প্রশাসনের একটি জাতীয় উদাহরণ হিসেবে সারা দেশে প্রশংসিত হবে।