মোঃ নাঈম মল্লিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক সদ্য প্রায়ত শরিফ ওসমান হাদির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার লঞ্চঘাটের নামকরণ করা হয়েছে তারই নামে। জন্মস্থানের মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এই লঞ্চঘাটের নামফলকে ‘শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি’র নাম লেখা হয়েছে।
শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন ঘাটের নতুন নাম উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি শহিদ শরিফ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদিসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে সার্বিক খোঁজখবর নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রফিকুল করিম,জেলা প্রশাসক মো.মমিন উদ্দিন,পুলিশ সুপার মো.মিজানুর রহমান ও ইউএনও মো.জোবায়ের হাবিব প্রমুখ।
পরে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, শহিদ ওসমান হাদির জন্মস্থান নলছিটি। তার শৈশব, বেড়ে ওঠা ও জীবনসংগ্রামের সঙ্গে এই লঞ্চঘাট এলাকার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সে কারণে নলছিটি লঞ্চ টার্মিনালের নাম পরিবর্তন করে তার নামে নামকরণ করা হয়েছে। এসময় তিনি আরও বলেন হাদি এখন শুধু বাংলাদেশের সন্তান না,হাদির নাম দেশের বাহিরে চলে গেছে। এ নাম যুগে যুগে অক্ষুন্ন থাকবে।হাদি দেশে একটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাজনীতি চেয়েছিল,সে জন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে। হাদিসহ জুলাই আন্দোলনে নিহত সকল শহিদদের হত্যার বিচার না হলে তাদের আত্মা মাফ করবেনা।
হাদির খুনিদের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,সরকার খুনীদের আটকের ব্যাপারে খুবই সিরিয়াস,দ্রুতই খুনী ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
নলছিটি লঞ্চঘাট এলাকা ওসমান হাদির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ঘাট এলাকাতেই তার জন্ম, এখানেই কেটেছে শৈশব ও কৈশোরের বহু স্মৃতিময় দিন। লঞ্চঘাট থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরত্বে তার পৈতৃক বাড়ি। নদীর ধারে দাঁড়িয়ে মানুষের আসা–যাওয়া দেখা, লঞ্চের ভিড়ে সময় কাটানো-এই ঘাট ছিল তার বেড়ে ওঠার নীরব সাক্ষী। আজ সেই ঘাটেই স্থায়ীভাবে যুক্ত হলো শহিদ হাদির নাম।
স্থানীয়রা জানান, আমরা চাইছিলাম হাদির স্মরণে এমন কিছু হোক, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম মনে রাখবে। তার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত লঞ্চঘাটের নাম তার নামে হওয়া নিঃসন্দেহে স্মরণীয় সিদ্ধান্ত। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ।
লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাত আলম জানান, এই ঘাটে আমরা হাদিকে ছোটবেলা থেকে দেখেছি। সে এখানকারই ছেলে ছিল। আজ তার নামে ঘাটের নামকরণ হওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ।
এদিকে অন্তর্বতী সরকারের নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের কাছে স্থানীয় সেচ্ছাসেবীদের সমন্বিত সংগঠন ভলানটিয়ার্স অব নলছিটির পক্ষ থেকে হাদির খুনীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখির দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে হত্যার উদ্দেশ্যে ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
পরে তার মরদেহ দেশে এনে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে জানাজা নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তাকে দাফন করা হয়।