নিজস্ব প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই–বাছাই শেষে প্রশাসনের ভূমিকায় ‘পক্ষপাতের গন্ধ’ থাকার অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা–৪ (দেবিদ্বার) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শুক্রবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ফ্যাসিবাদ বিদায়ের পর জনগণ যে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রশাসনের প্রত্যাশা করেছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র চোখে পড়ছে। তার ভাষায়, বর্তমান প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের—বিশেষত বিএনপির—দিকে ঝুঁকে পড়েছে, যা হতাশাজনক।
তিনি দাবি করেন, দেবিদ্বার আসনের এক প্রার্থী নির্বাচনী হলফনামায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করলেও পর্যাপ্ত প্রমাণ জমা দেওয়ার পরও তার মনোনয়ন বৈধ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তকে তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টিকারী হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরও ‘জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা’ ও শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি নেই—এটি প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসন সংস্কারের চেষ্টা করলেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি প্রভাব খাটিয়ে সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। তবে নির্বাচনের ফলেই বোঝা যাবে প্রশাসন কতটা সংস্কার হয়েছে।
দেবিদ্বারের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চনার পর এবার সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উল্লেখ করে তিনি ১২ তারিখ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, কুমিল্লার ছয়টি আসনে যাচাই–বাছাই শেষে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইউসুফ হাকিম সোহেলসহ ১৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল ও একজনের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। কুমিল্লা–৪ আসনে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।