৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রজব, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীতে সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় ডিলারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় সারের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় মাসুদ মন্ডল নামে একজন সার ব্যাবসায়ীর লাইসেন্স বাতিল সহ তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে ওই এলাকার কয়েক শত কৃষক।

রবিবার (০৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে উপজেলার কৃষকবৃন্দের ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার উজানচর ইউনিয়নের কৃষকদের স্বাক্ষরিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া হয়।

মাসুদ মন্ডল উপজেলার উজান চর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসু মন্ডলের ছেলে এবং সে গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী বলে জানাযায়।

অভিযোগে বলা হয়,  মাসুদ মন্ডল যখন খুচরা ডিলার ছিল তখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কৃষকদের সাথে জোরজবরদস্তি করে টাকা নিতো, কেউ তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করার সাহস করতো না। আবার বর্তমানে  ডি,এ,পি সার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ করা আছে বস্তা প্রতি ১০৫০ টাকা কিন্তু তিনি কৃষকদের নিকট হতে ১৬৫০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকা করে প্রতি বস্তা প্রতি বিক্রয় করছে।

শুধু ডি.এ.পি নয় সকল প্রকার সার বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুন বেশি দামে বিক্রি করে আসছে। এতে এলাকার কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য সার ক্রয় হতে প্রতারিত ও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রন্থ হচ্ছে।

ইতিপূর্বে মোঃ মাসুদ মন্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে তার পাইকারি সার বিক্রয়ের অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। বর্তমান উপজেলা কৃষি অফিসারের সহযোগিতায় বন্ধ থাকা পাইকারি ভাবে সার বিক্রির অনুমোদন নিয়েছে।

এমতাবস্থায় সরেজমিনে ভুক্তভোগী কৃষকদের মতামত নিয়ে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত চড়া দামে পাইকারি ও খুচরা সার বিক্রির কার্যক্রম লাইসেন্স বন্ধ স্থগিত করার আবেদন করছি।

অভিযুক্ত মাসুদ মন্ডল বলেন, আমি ইউনিয়ন পর্যায়ে খুব কম সার পেয়ে থাকি এবং সরকারি দামে সার বিক্রি করে থাকি। বর্তমানে আমি সার বিক্রি করছি না।

তবে উজান চর ইউনিয়নের কৃষক কালা চান শেখ দাবি করেন, বর্তমানে  ডি,এ,পি সার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ করা আছে বস্তা প্রতি ১০৫০ টাকা সে ১৬৫০ টাকা বিক্রি করে তবে বাঁকী নিলে ১৬৮০ টাকা নেয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা কমিটি একটি তদন্ত করেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তাকে ডিলারশীপ দিয়েছে। এখন আবার নতুন করে অভিযোগ দিয়েছে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, গত সপ্তাহে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, এর আগে গত বৃহস্পতিবার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আজকের মানববন্ধন কর্মসূচি সম্পর্কে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top