মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বহরপুর (বাহিরচর) গ্রামের সৌদি প্রবাসী রুবেলের সাঁজানো সংসার ছিল তার এক কন্যা সন্তান (১১) কে নিয়ে। কিন্তু পরকীয়ার বিষাক্ত ছোবলে সেই সুখের নীঁড় এখন মহাশ্মশানে পরিণত হয়েছে।
পার্শ্ববর্তী জেলা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বালিয়াশিশি গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে প্রবাসী অসিমের সাথে দীর্ঘ ২ বছরের মোবাইল ফোনে পরকীয়ার টানে বিন্তি আক্তার বিসর্জন দিয়েছেন মাতৃত্বের মহান পরিচয়। স্বামীর ঘর থেকে নগদ টাকা ও গয়না নিয়ে তিনি পাড়ি জমিয়েছেন লম্পট প্রেমিকের বাড়ীর ঠিকানায়।
বিছানায় পড়ে থাকা মায়ের কাপড়ের ঘ্রাণ খুঁজে বেড়ানো ১১ বছরের মেয়ের অবুঝ প্রশ্ন-মা কেন আমাদের ফেলে গেল? এই প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে। ১১ বছরের মেয়ে এখন নিজের চোখের জল মুছে সম্প্রতি সৌদি থেকে বাড়ীতে আসা বাবার কোনরকমে সামলাচ্ছে। মায়ের আঁচলের বদলে তার কপালে এখন জুটছে প্রতিবেশীদের করুণা আর বাবার দীর্ঘশ্বাস। মাতুলালয় (নানা বাড়ি) তে কোনো মতো ঠাঁই মিললেও, যেন এই শিশুর কোনো অপরাধ ছিল!
সমাজতাত্ত্বিকরা বলছেন, এটি কেবল একটি পরকীয়ার ঘটনা নয়, বরং আমাদের পারিবারিক কাঠামোর এক চরম ধস। মাত্র কয়েকদিন আগে স্বামীকে কথিত ডিভোর্স দিয়ে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে লম্পট অসিম পূর্বে আরও ২-৩ স্ত্রী’র স্বামী ও পরকিয়ায় আসক্ত প্রেমিকের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে বিন্তি আক্তার।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বালিয়াশিশি এলাকায় গিয়ে অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান, কোরবান আলীর চরিত্রহীন লম্পট ছেলে অসিম এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত ছিলো। একসময় প্রেম করার মাধ্যমে প্রথম বিয়ে করে সংসার পাতে অসিম। সেই সংসার জীবনে তাদের ঔঁরষে একটি ছেলে সন্তান জন্মের পর প্রথম স্ত্রীর বাবার নিকট থেকে নেওয়া টাকায় বেকার অসিম সৌদি আরবে পাড়িজমায়। সেখানে গিয়ে ফোনের মাধ্যমে অপর একজনের স্ত্রী’র সাথে পরকিয়ার মাধ্যমে সেখান থেকে ডিভোর্স করিয়ে বিয়ে করেন। সেই স্ত্রীকে তার কাছে সৌদি আরবে নিয়ে যান। সম্প্রতি বাড়ীতে পাঠিয়ে দিয়ে সৌদি থেকেই তাকে তালাক দিয়েছে এলাকাবাসী জানায়। গত ২ বছর ধরে ভাগিনা হিসেবে পরিচয় দেওয়া অসিমের অন্য সহকর্মীর স্ত্রীকে অসিম এর মা-বাবা ও ভাইয়ের সহযোগিতায় ভাগিয়ে নিয়ে অবৈধভাবে তার বাড়ীতে রেখেছে।
বহরপুর এলাকায় কথা হয় বিন্তি আক্তারের ঘনিষ্টজনদের সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, বিন্তি আক্তার তার নিজের পছন্দে ৪ বছর ধরে গোপনে প্রেম করে দীর্ঘ ১২ বছর আগে বিয়ে করে মাগুরা জেলার নিশ্চিন্তপুরের রুবেলকে। তাদের সংসার জীবনে রয়েছে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান। ভালোবাসার স্ত্রী ও সন্তানকে সুখে রাখতে রুবেল পাড়ি জমান মরুর দেশ সৌদি আরবে। এজসাথে কাজের সুবাদে পরিচয় অসিম এর সাথে। অসিম বাড়ী আসার সময় রুবেল প্রয়োজনিয় জিনিসপত্র পাঠালে সেটা দিতে এসেই অসিমের সম্পর্ক বিন্তি আক্তারের সাথে। স্বামীর অনুপস্থিতিতে লুকিয়ে দীর্ঘ ২ বছর মোবাইলে চুটিয়ে প্রেম করে চলেছে লম্পট অসিম ও বিন্তি আক্তার। ২ বছরের পরকিয়া প্রেমের সুবাদে বিন্তি তার স্বামী রুবেল গত ১৯ নভেম্বর সৌদি থেকে বাড়ীতে ফেরার কথা শুনেই লম্পট কথিত প্রেমিক অসিমের পরামর্শে বাড়ী ছাড়েন, আশ্রয় নেয় অসিম এর খালাতো বোন খাদিজা বেগম ও তার স্বামী কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অভিযোগ কেন্দ্রে কর্মরত লাইনম্যান জুলহাস উদ্দিনের ভাড়া বাসায়। বালিয়াকান্দি থানায় সাধারণ ডায়রী ১০৮৯ ও রাজবাড়ী বিজ্ঞ আদালতের ১০২২/২৫ নং সার্চওয়ারেন্ট মামলার সুবাদে সেখানে খোঁজ করতে গেলে সুচতুর জুলহাস, তার স্ত্রী খাদিজা ও শ্যালক বাপ্পি বিন্তি আক্তারকে কুষ্টিয়ায় নিয়ে এসে অসিম এর ভাই বাজারে মাংস ব্যবসায়ী সুন্নাত আলীর মাধ্যমে মিরপুর থানায় সোপর্দ করে। সেখান থেকে নিয়ে এলেও অসিমের কথামতো তার ভাই বহরপুর এসে গোপনে আবার বিন্তিকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। গত ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে সাধারণ ডায়রি মুলে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ মিরপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় ভিকটিম বিন্তি আক্তারকে উদ্ধার করে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করলেও শনিবার (০৩ জানুয়ারি) রাতে অসিমের পরামর্শে তার ভাই এসে পুনরায় বিন্তির বাবার বাড়ী থেকে নিয়ে যায়।
অসিমের প্রথম স্ত্রী জানান, অসিম মুলতঃ একজন লম্পট, চরিত্রহীন, পরোস্ত্রী আসক্ত। আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করলেও তার ছিলো অন্যের স্ত্রীদের ফাঁসানোর অভ্যাস। আমার ছেলে জন্মের পর আমার বাবার দেওয়া টাকায় অসিম সৌদিতে পাড়ি জমায়। অথচ সৌদি গিয়ে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে অন্য একজনের স্ত্রীকে বিয়ে করে। আর এসব কাজের সার্বিক সহযোগিতা করে অসিম এর মা সারেজান নেছা। অসিম তার মায়ের কথায় মাঝের স্ত্রীকেও ছেড়ে দিয়ে এখন ভাগ্নে পরিচয় দেওয়া রুবেল এর স্ত্রীকে ফোনে বিয়ে করার কথা শুনছি। অসিমের মতো এমন লম্পট চরিত্রের মানুষের বিচার হওয়া উচিৎ বলে আমি মনে করি।