মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার আজিজ সরদার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অস্থায়ী বেদেপল্লীতে বসবাসকারী বাসিন্দারা চলমান কনকনে শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পলিথিনে মোড়া ছোট ছোট তাঁবুতে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানসহ বসবাস করা এই পরিবারগুলোর দিনে আনা, দিনে খাওয়া জীবন।
লিমা বেগম নামে এক বেদে নারী বলেন, “আমাদের আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই। দু-পয়সা দিয়ে কেউ সাহায্য করে না। সারাদিন গরম কাপড়ের জন্য অপেক্ষা করি। আমাদের মতো কর্মহীন ও স্বল্প আয়ের মানুষ শীতে একেবারেই অসহায় অবস্থা।”
বেদেপল্লীর বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, “গত সপ্তাহে শীত কিছুটা কম ছিল। এখন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা এবং শীতল বাতাসের কারণে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্ত্রী-সন্তানদের খেয়াল রেখে কাজ করতে গিয়ে সর্দি-কাশি হচ্ছে, কিন্তু পর্যাপ্ত গরম কাপড় নেই আমাদের। আমরা দিনে আনা, দিনে খাওয়া মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে জীবন চালানো খুবই কষ্টকর।”
শীমা বেগম আরও জানান, অর্থের অভাবে শীতে গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। “ফলে আমরা সর্দি, কাশি ও জ্বরসহ বিভিন্ন শীতকালীন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। দারিদ্র্যতা আমাদের প্রতিদিনের সঙ্গী।”
গতকাল শনিবার (০৩ জানুয়ারী) সরজমিনে বেদেপল্লীর তাঁবুর পাশে দেখা যায়, মাটির ওপর মাত্র ৫ থেকে ৬ ফুট আকারের ছোট তাঁবুতে পরিবারের চার থেকে পাঁচজন সদস্য বসবাস করছেন। অনেক পরিবার অর্ধাহারে কিংবা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে কাজের খোঁজ করতেও সমস্যা হচ্ছে, ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অনেকে।
এ পল্লীর অন্তত ১০টি পরিবার এই মানবেতর পরিস্থিতিতে দিনযাপন করছে।
স্থানীয় প্রশাসন এসব পরিবারের দুরবস্থার খবর পাওয়ার পর দ্রুত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বাসিন্দারা মনে করেন, শীতে কমপক্ষে গরম কাপড় ও খাবারের সামান্য সহায়তা পৌঁছে দিলে তাদের ভীষণ স্বস্তি পাওয়া সম্ভব হতো।
লিমা বেগমের ভাষায়, “এখন আমাদের একমাত্র ভরসা আল্লাহর ওপর। কিন্তু যদি সমাজের মানুষ একটু সহানুভূতি দেখাতো, অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”
শীত বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধদের উপর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে। খাবার ও গরম কাপড়ের অভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পল্লীর মানুষদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষদের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
রাজবাড়ীর এই বেদেপল্লীর শীতের দুরবস্থার চিত্র শুধু মানবিক সহমর্মিতার আহ্বানই নয়, একই সঙ্গে এটি দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বাস্তব চিত্রও তুলে ধরছে।