৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১৯শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

নওগাঁয় বাসচালককে ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিনিধি:

নওগাঁর সাপাহারে সিটবিহীন টিকিট নিয়ে তর্কের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাসের এক চালককে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাপাহার সার্কেল কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাপাহার থেকে ধানসুরাগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের বাসে সিটবিহীন টিকিট কেটে ওঠেন শ্যামলী রানীর স্বামী ও কলেজশিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ। দিঘার মোড়ে একজন যাত্রী ওঠার পর সিট ছাড়তে অনুরোধ করলে জয়ন্ত বর্মণের সঙ্গে সুপারভাইজার সিয়ামের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে তিনি হুমকি দেন এবং পরে চালকের সঙ্গেও তর্কে জড়ান।

বাসচালক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ধানসুরায় নামার আগে জয়ন্ত বর্মণ চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যান। পরবর্তীতে শ্যামলী রানী বর্মণ টিকিট মাস্টারের ফোনে চালক বাদলের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে রাতে সাপাহারে ফিরতে বলেন। রাত ১০টার দিকে বাস ফিরে এলে চালককে কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।

বাসচালক বাদলের ভাষ্য, অফিসে ঢুকেই তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রথমে শ্যামলী রানী বর্মণ লাথি মারেন, এরপর তার স্বামী ও দেহরক্ষী পাইপ দিয়ে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি জ্ঞান হারালে শর্তসাপেক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি চিকিৎসা নেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন যাত্রীও জয়ন্ত বর্মণের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন।

এ ঘটনায় রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাসচালককে নির্যাতনের ঘটনায় মালিক–শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও এএসপির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান, অন্যথায় কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ বলেন, তার স্বামীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার হওয়ায় চালক ও সুপারভাইজারকে অফিসে ডাকা হয়েছিল। চালক দুঃখ প্রকাশ করলেও কাউকে মারধরের ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে ‘গুজব রটানো হচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেন।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এএসপি কাউকে মারধর করেছেন—এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top