মোঃ হাচান আল মামুন, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি:
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় তীব্র শীতে বিপর্যস্ত শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশন। বুধবার (৭ জানুয়ারি ) সকাল ১০টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্ত অসহায়, হতদরিদ্র, বিধবা, পাহাড়ি ও বাঙালি মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করে সংগঠনটি।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশন মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আসছে। শুধু শীতবস্ত্র বিতরণই নয়, অসুস্থ ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা, অসচ্ছল পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদানসহ নানামুখী মানবিক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি। একতা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় অনেক অসুস্থ মানুষ সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে পুরো দীঘিনালা জুড়ে সংগঠনটির মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দীঘিনালায় কয়েকদিন ধরে বিরাজ করছে তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা। প্রচণ্ড শীতের কারণে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে ৭ জানুয়ারি ২০২৬ জুড়ে দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশন।
প্রথমে সংগঠনটি নিজ এলাকা বেতছড়িতে হতদরিদ্র অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করে। এরপর মধ্য বোয়ালখালী মানবিক যুবসমাজের সহযোগিতায় মধ্য বোয়ালখালী গ্রামের অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে কবাখালী উত্তর মিলনপুর এলাকা এবং সর্বশেষ মেরুং ইউনিয়নের চংগাছড়ি এলাকায় শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়।
কম্বল নিতে আসা শীতার্ত মানুষ কম্বল পেয়ে আনন্দ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, প্রচণ্ড শীতে এই কম্বল তাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হবে। অনেকেই মানবিক এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। শীত নিবারণে এ সহায়তা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে বলেও মন্তব্য করেন উপকারভোগীরা।
কম্বল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মোঃ আল আমিন, কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন, সদস্য আবদুল হালিম, আলামিন, ইব্রাহিম, হৃদয়সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
এ সময় বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডা. মোঃ আল আমিন বলেন, “বেতছড়ি একতা ফাউন্ডেশন একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। আমরা প্রতিবছরই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। এবারও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
কোষাধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন,“অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে পারি।”