৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২০শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

 ১৬ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য: তিস্তা সিল্ট ট্র্যাপে ডালিয়া পাউবোর বিশাল কর্মযজ্ঞ

মোঃ বাদশা প্রামানিক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

​দেশের কৃষি অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পকে সচল ও প্রাণবন্ত রাখতে শুরু হয়েছে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। নীলফামারীর বাইশপুকুর সিল্ট ট্র্যাপ এলাকায় জমে থাকা পলি অপসারণে ৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার এক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

নিরবিচ্ছিন্নভাবে সেচ প্রকল্পের পানির প্রবাহ ধরে রাখতে ​মোট ৪ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ৮২৯ টাকা ব্যয়ে প্রায়​ ৪৫ হেক্টর ২ লাখ ৮৫ হাজার ঘনমিটার পলি অপসারণ করা হচ্ছে।এ মৌসুমে কৃষকদের সেচ প্রদানের লক্ষ্যে আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে খনন কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানদের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

​​পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং সেচ ক্যানালে পলি পড়া রোধে ‘সিক্স সিলিন্ডার’ ড্রেজিং মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। অত্যাধুনিক এই যন্ত্রের মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে গভীর তলদেশ থেকে মাটি ও পলি অপসারণ করা হচ্ছে, যা কাজের মানকে নিশ্চিত করছে কয়েক গুণ।

​​পুরো খনন কাজটিকে দুটি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। প্রথম প্যাকেজে রংপুরের ‘ইউনাইটেড ব্রাদার্স’ ১ লাখ ৭০ হাজার ঘনমিটার এবং দ্বিতীয় প্যাকেজে সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার এম. ডি. শামীমুর রহমান ১ লাখ ১৫ হাজার ঘনমিটার মাটি অপসারণের কাজ করছেন।

​সামনেই বোরো ধানের আবাদ। উত্তরবঙ্গের কৃষকদের সেচ সুবিধা যেন বিন্দুমাত্র বিঘ্নিত না হয়, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই জরুরি খনন কাজ হাতে নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। পলি অপসারণ শেষ হলে সেচ ক্যানালগুলোতে পানির ধারণক্ষমতা ও গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)​ এর নির্ভয় নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, আগামী ১৬ জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডালিয়া পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম ও নুরুন্নবী এ দুজনকে মাঠ পর্যায়ে থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।

​”আমরা পরিপত্র অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে কাজ শেষ করতে কাজ করে যাচ্ছি। লক্ষ্য একটাই—সেচ মৌসুমে কৃষকের কাছে নির্বিঘ্নে পানি পৌঁছে দেওয়া।”

এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতাধীন এলাকায় চাষাবাদে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top