মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
হিমেল উত্তরের হাওয়া আর ঘন কুয়াশার দাপটে যখন নীলফামারীর জনজীবন স্থবির, তখন শীতের নির্মম বাস্তবতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে-খাওয়া দরিদ্র ও অসহায় মানুষ। কনকনে শীতে যাদের রাত কাটে খোলা আকাশের নিচে কিংবা জরাজীর্ণ ঘরে—তাদের জন্য একটুখানি উষ্ণতা হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন “তরুণ সহযোগী সংগঠন নীলফামারী (TSSN)”।
শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় জেলার শীতার্ত ও দুস্থ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সংগঠনটির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে শতাধিক শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হয়—যা শুধু একটি শীতবস্ত্র নয়, বরং ছিল মানবিক সহমর্মিতা ও ভালোবাসার উষ্ণ বার্তা।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) নীলফামারী জেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তরুণ সহযোগী সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট মোঃ এজাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন মাধব চন্দ্র রায়, রিয়াজুল ইসলাম, লাবিব হোসেন ও মোর্শেদ আলমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শীত মৌসুম দরিদ্র মানুষের জন্য এক ভয়াবহ পরীক্ষার সময়। প্রয়োজনীয় পোশাক ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে অনেক মানুষ অসহনীয় কষ্টের মধ্যে দিন কাটান। এই বাস্তবতা থেকেই তরুণ সহযোগী সংগঠন নীলফামারী শীতবস্ত্র বিতরণের মতো মানবিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।
ডিরেক্টর মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আমাদের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোঃ হোসেন রাব্বী ভাইসহ সকলের সহযোগিতায় আমরা এই মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি। শীতকাল আমাদের অনেকের কাছে আনন্দের হলেও অসহায় মানুষের কাছে এটি যন্ত্রণার। পর্যাপ্ত পোশাক ও আশ্রয়ের অভাবে যেন কেউ শীতে অসুস্থ বা বিপন্ন না হয়—সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে শুধু শারীরিক উষ্ণতা নয়, বরং অসহায় মানুষের মনে সাহস ও আশার আলো জ্বালাতে চায় তারা। আগামীতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
মানবিকতার এই উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে শীতের কনকনে ঠান্ডার মাঝেও যেন নীলফামারীর আকাশে ছড়িয়ে পড়েছে সহমর্মিতার উষ্ণ আলো।