মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
“জাত-পাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধ”সহ আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে রাজবাড়ীতে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলনের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা শহরের হরিসভা মন্দিরে ওই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি অরুন কুমার সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বিভুতোষ রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার উপদেষ্টা জ্যোতি শংকর ঝন্টু, উপদেষ্টা ফকীর শাহাদৎ হোসেন, উপদেষ্টা সুশীল সরকার, বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ও সমাজ সেবক পরিমল সরকার, বাংলাদেশ জরিজন ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব বাসুদেব মন্ডল, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিল রবি দাস, বার্থা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক নিরানন্দ সরকার, ডাচ বাংলা ব্যাক লিমিটেডের বালিয়াকান্দি শাখার ম্যানেজার গোকুল চন্দ্র পোদ্দার, মৎস্যজীবি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি উত্তম কুমার সরকার, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার মহিলা সম্পাদিকা কনিকা সরকার, কার্যনির্বাহী সদস্য রবীন্দ্রনাথ সরকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠি অধিকার আন্দোলন রাজবাড়ী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম কুমার দাস।
বক্তারা এ সময় বলেন, দলিত জনগোষ্ঠি আট দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই সম্মেলন। এই সম্মেলন থেকেও আটদফার দাবিগুলো তুলে ধরা হলো।
দাবি সমুহ হলো, জাত-পাত ও পেশাভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে বৈষম্য বিরোধী বিল-২০২২ সংশোধনপূর্বক অবিলম্বে পাশ করতে হবে। সকল সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ে দলিত শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি কোঠা এবং চাকুরীতে কোটা প্রবর্তন করতে হবে। জাতীয় জনশুমারিতে দলিত জনগোষ্ঠিকে পরিচয়ভিত্তিক পৃথকভাবে গননা এবং স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় বাজেটে দলিত জনগোষ্ঠির জন্য সুনিদিষ্টভাবে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় বরাদ্দ বারাতে হবে। সকল মহানগরী ও পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ব্যাবস্থা করতে হবে এবং খাস জমি বরাদ্দের মাধ্যমে গ্রামীন দলিতদের ভুমির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি এবং পেশাগত স্বাস্থ্যঝুকি নিরসনে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সংসদে সাধারন ও সংরক্ষিত আসনে দলিত জনগোষ্ঠির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষন ও সংরক্ষিত অনুদান প্রদানের মাধ্যমে দলিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।