১১ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২২শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা: জালিয়াতির ‘ডিজিটাল কারসাজি’ ও প্রশ্নবিদ্ধ স্বচ্ছতা

মোঃ সাজেল রানা, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি:

সারাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। তবে পরীক্ষা ঘিরে বরাবরের মতোই এবারও দানা বেঁধেছে নানা বিতর্ক। প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন, ধরপাকড় এবং পরীক্ষার হলে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে নকলের মহোৎসব সব মিলিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রযুক্তির অভিনব ব্যবহার: ‘মোনালিসার কণ্ঠে’ উত্তর সরবরাহ
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে রংপুর কারমাইকেল কলেজ কেন্দ্রে। সেখানে প্রশাসনিক ভবনের ১৪ নম্বর কক্ষে এক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি ‘ডিজিটাল চশমা’।

দায়িত্বরত শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম সাইফ স্যারের বর্ণনায় উঠে এসেছে জালিয়াতির এক রোমহর্ষক চিত্র। তিনি জানান, এক পরীক্ষার্থী মোটা ফ্রেমের একটি চশমা পরে বেশ ফুরফুরে মেজাজে পরীক্ষা দিচ্ছিল। সন্দেহবশত চশমাটি খুলে কানে ধরতেই তিনি চমকে ওঠেন।

চশমা থেকে সুমধুর নারী কণ্ঠে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর বলে দেওয়া হচ্ছিল। জালিয়াতির এই ডিজিটাল পদ্ধতির বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “মাঝে মাঝে সেখানে গানও বাজছিল। যে নারী উত্তর বলে দিচ্ছিলেন, তার কণ্ঠ এতটাই সুমধুর ছিল যা শুনে যে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারে।” পরবর্তীতে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট এসে ওই পরীক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায়।

সারাদেশে ধরপাকড় ও অস্থিরতা
শুধু রংপুর নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অবৈধ উপায়ে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগে অসংখ্য পরীক্ষার্থীকে আটক করার খবর পাওয়া গেছে। পরীক্ষা শুরুর আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এই অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। পরীক্ষার হলে ইলেকট্রনিক ডিভাইস, ব্লুটুথ ও গোপন ডিভাইসের ব্যবহার এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনমনে প্রশ্ন: পরীক্ষা কি আদৌ বৈধ হয়েছে?
নিয়োগ পরীক্ষার এই ‘নকলের মহা বাণিজ্য’ দেখে সাধারণ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। যারা মেধা দিয়ে পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিয়েছেন, তারা এখন হতাশায় ভুগছেন।

সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—যেখানে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি সম্ভব হচ্ছে, সেখানে কি আদৌ মেধাবীদের মূল্যায়ন হবে? এই পরীক্ষা কি শেষ পর্যন্ত বৈধ বা স্বচ্ছ হিসেবে গণ্য হবে?

কর্তৃপক্ষ জালিয়াতির দায়ে অনেককে আটক করলেও এই চক্রের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল চশমা কিংবা কানের ভেতর ক্ষুদ্র ডিভাইসের মতো প্রযুক্তি কীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করছে, তা নিয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top