নিজস্ব প্রতিনিধি:
গাজায় গঠিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর (আইএসএফ) অংশ হতে বাংলাদেশ নীতিগতভাবে আগ্রহী—এ কথা জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, শুক্রবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন রাজনৈতিকবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকার এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে তিনি এ আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। জবাবে আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী।
গত বছরের নভেম্বরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। ওই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গাজায় যুদ্ধবিরতির নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন।
বৈঠকে হুকার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। খলিলুর রহমান তাকে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।
আলোচনায় দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতিও উঠে আসে। খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের আমদানি বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি ভিসা বন্ড ব্যবস্থায় শিথিলতা, বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বি-১ ভিসার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। হুকার এ বিষয়ে ইতিবাচক বিবেচনার আশ্বাস দেন।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রশংসা করে খলিলুর রহমান তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। হুকারও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান।
এ ছাড়া বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টরসহ প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের অর্থায়ন ব্যবহারের অনুরোধ করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা।
অন্যদিকে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এ সফরের অংশ হিসেবে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন।