মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে ৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে ৭ প্রার্থীর মধ্যে চারজনের পেশা ব্যবসা, একজন শিক্ষক, একজন আইনজীবী রয়েছেন এবং একজন তার পেশা উল্লেখ করেননি।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের সঙ্গে দাখিল করা প্রার্থীদের হলফনামা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন-অর-রশীদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হারুন-অর-রশীদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোঃ সফিউল আজম খান, স্বতন্ত্র বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মোঃ নাসিরুল হক সাবু, গণঅধিকার পরিষদের জাহিদ শেখ, এনসিপি’র জামিল হিজাজী, খেলাফত মজলিসের কাজী মিনহাজুল আলম।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুন-অর-রশীদ। তিনি পাংশা উপজেলার মাছপাড়া গ্রামের মতিয়ার রহমান ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি এম.এ পাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা থেকে জানা যায়, তিনি ৮টি মামলার আসামি ছিলেন। ওই মামলাগুলো থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত, স্থগিত ও ২টি চলমান রয়েছে। তিনি ব্যবসা করেন। ব্যবসা থেকে আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ টাকা ৩০ লাখ ১৩ হাজার ৩৩ টাকা এবং তার স্ত্রীর ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৭০ টাকা। ব্যবসার মধ্যে- এগ্রো মিটস লিঃ ১ লাখ টাকা, আশা বিল্ডার্স লিঃ ৭৫ হাজার টাকা, পিলেক্স কনস্ট্রাকশন ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার ১৫ তোলা স্বর্ণ। এছাড়াও ইলেক্টনিক পণ্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, স্ত্রীর ২৫ তোলা স্বর্ণ, ইলেক্ট্রনিক পণ্য ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র নিজের ১ লাখ ও স্ত্রীর ১ লাখ টাকা, অন্যান্য নিজের ২ লাখ টাকা, স্ত্রীর দেড় লাখ টাকা, অকৃষি জমি ২৭.৫০ শতাংশ।
ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে মেসার্স মনোয়ারা এন্টারপ্রাইজের নামে ৬৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯১ টাকা ঋণ আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, মিরপুর শাখা, ঢাকা। বর্তমানে ঢাকার মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়ায় একটি বাড়ীও রয়েছে তার।
এদিকে রাজবাড়ী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোঃ নাসিরুল হক সাবু এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রপ্রার্থী হয়েছেন। তিনি পাংশা পৌরসভার নারায়নপুর এলাকার ডা. বজলুল হক ও হোসনে আরা বেগমের ছেলে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি এসএসসি পাশ উল্লেখ করেছেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা থেকে জানা যায়, তিনি ৪টি মামলার আসামি ছিলেন, যা এখন অব্যাহতিপ্রাপ্ত। তিনি ব্যবসা করেন। স্ত্রী শিক্ষকতা করলেও বর্তমানে অবসরে আছেন। প্রার্থীর ব্যবসা থেকে আয় ১ লাখ টাকা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। নগদ টাকা ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা, ব্যাংকে ৭১ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ২ লাখ টাকা, স্বর্ণ ৮০ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রনিক পণ্য ২০ হাজার টাকা, আসবাবপত্র ৫০ হাজার টাকা, বর্তমান ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বাড়িতে থাকেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী:
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হারুন-অর-রশিদ। তিনি পাংশা পৌর শহরের মাগুরাডাঙ্গী গ্রামের মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ ও ছাহেরা খাতুনের ছেলে। তিনি বিএ পাশ করেছেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা থেকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে ৪টি মামলা থাকলেও বর্তমানে সব মামালায় তিনি খালাসপ্রাপ্ত। শিক্ষকতা করলেও এখন অবসরে। তার বার্ষিক আয়ের ঘরটি ফাঁকা রয়েছে। অস্থাবর সম্পদ বিবরণীতে তার কোনো নগদ টাকা নেই। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি পাংশা শাখায় নিজের নামে ৭ হাজার ১১ টাকা, ১ লাখ ১০ হাজার টাকার একটি মোটরসাইকেল, স্ত্রীর স্বর্ণালংকার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২.৫০, ইলেক্ট্রনিক পণ্য ৪৪ হাজার টাকা, খাট, সোফা ১ লাখ টাকা, নিজের ২ লাখ টাকা ও স্ত্রীর ৪ লাখ ৬২ হাজার টাকার সম্পদ। অকৃষি জমি ১ শতাংশ, স্ত্রীর ১০ শতাংশ, স্ত্রীর ৩ লাখ টাকা মূল্যের আধাপাকা ঘর।
জাতীয় পার্টি:
রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. শফিউল আজম খান। তিনি পাংশা উপজেলার যশাই গ্রামের মোঃ আয়নাল কবীর খান ও ছালমা খাতুনের ছেলে। তিনি বিএ ও এলএলবি পাশ করেছেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিউল আজমের পেশা আইন ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় কৃষি থেকে ১২ লাখ এবং আইন ব্যবসা থেকে ৩ লাখ টাকা। তার নগদ টাকার পরিমাণ ৫ লাখ টাকা। ব্যাংকে আছে ১০ লাখ টাকা। স্বর্ণ রয়েছে ৫ ভরি, ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র মিলিয়ে দুই লাখ টাকা। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ২ একর কৃষি জমি যার মূল্য ২০ লাখ টাকা। অকৃষি জমি ৫০ শতাংশ, মূল্য উল্লেখ করেছেন ৫ লাখ টাকা। এছাড়া ১০ লাখ টাকা মূল্যের একটি পাকাবাড়ি রয়েছে।
এনসিপি:
৩৯ বছর বয়সী এনসিপি প্রার্থী জামিল হিজাযী ওরফে সাইয়েদ জামিল। পেশা লেখক, পরামর্শক ও ব্যবসা। তিনি পাংশা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আতাউর রহমান ও তহুরা বানুর ছেলে। বর্তমান তিনি ঢাকা লালবাগ জোন-এ আজিমপুর সরকারী কর্মকর্তাদের আবাসনের একটি ফ্লাট বাসায় বসবাস করেন। তিনি এমএ পাশ করেছেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিলকৃত হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, তার বার্ষিক আয় ব্যবসা থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। শেয়ার বন্ড সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানত ইত্যাদি থেকে আয় ৬৪ হাজার ৩৮৬ টাকা। একই খাত থেকে স্ত্রীর আয় ৭৬ হাজার ১৮১ টাকা। স্ত্রীর সরকারি চাকরি থেকে আয় ৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৭০ টাকা। প্রার্থী লেখালেখি থেকে আয় করেন ৯৮ হাজার টাকা। তার নগদ টাকার পরিমাণ ১৬ লাখ। তিনটি ব্যাংকে তার টাকা জমা আছে ১০ লাখ ৭ হাজার ৭৪৯ টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র রয়েছে ১২ লাখ ১০ হাজার ২৬ টাকার। স্বর্ণ রয়েছে ৫ লাখ টাকার। ইলেক্ট্রনিক্স ও আসবাবপত্র মিলিয়ে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তার স্ত্রীর নগদ রয়েছে ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৬ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ২৬৯ টাকা। সঞ্চয়পত্র রয়েছে ২২ লাখ ১১ হাজার ৭৩৫ টাকার। স্থাবর সম্পদের ঘর ফাঁকা রয়েছে।
খেলাফত মজলিস:
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মিনহাজুল ইসলামের শিক্ষাগত যোগ্যতা এম কম হলেও তিনি পেশা উল্লেখ করেননি। অস্থাবর সম্পদের বিবরণীতে তিনি নগদ ১৫ লাখ ৫২ হাজার একশ টাকা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বাস, ট্রাক, মোটরযান ইত্যাদি ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকা, স্বর্ণ ৩০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক পণ্য ৬০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র এক লাখ টাকা। অর্জনকালীন এসব মূল্য ছিল ২৯ লাখ ৩২ হাজার একশ টাকা, বর্তমান মূল্য ৭০ লাখ টাকা।
স্থাবর সম্পদের বিবরণীতে তার কৃষি জমির পরিমাণ ৮২ শতক, যার দাম ১১ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকা, অকৃষি জমি ৫০৩ শতক, যার দাম ২ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ টাকা, রাজধানী ঢাকার গ্রীণ রোডে বাড়ি আছে, যার দাম ৬৩ লাখ ১৩ হাজার দুইশ টাকা। সর্বমোট অর্জনকালীন মূল্য ছিল ৭৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭২ টাকা। বর্তমান মূল্য ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।