সৈয়দ মাকসুমুল হক চৌধুরী সিয়াম, মোহনগঞ্জ (নেত্রকোণা) প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে রঞ্জিত চন্দ্র কর (৫৫) নামে ওয়ার্ড বিএনপির এক সভাপতিকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর শনিবার দুপুরে আহত রঞ্জিত চন্দ্র করের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর বাদি হয়ে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সরজিত চন্দ্র কর (৩২), প্রদীপ চন্দ্র কর (২৮), সঞ্জিত চন্দ্র কর (৪০), সুশীল চন্দ্র কর (৬৫)সহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্র ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের ভাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রঞ্জিত চন্দ্র করের সঙ্গে একই গ্রামের সুশীল চন্দ্র করদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে তিনি বাড়ি থেকে উকিল মুন্সি বাজারে যাওয়ার পথে বেথাই নদীর উপর নির্মিত একটি ব্রিজের কাছে পৌঁছালে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা সুশীল চন্দ্র করের নেতৃত্বে তার লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।
হামলাকারীরা রঞ্জিত চন্দ্র করের দুই পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদড়ক মারধর করে তাকে গুরুতর আহত করে এবং পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
আহতের বড় ভাই অনিল চন্দ্র কর অভিযোগ করে বলেন, ভাটাপাড়া গ্রামটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা। তাদের সাত ভাইয়ের মধ্যে পাঁচ ভাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অন্য দুই ভাইসহ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তার ছোট ভাইকে একা পেয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।