সোহরাব সাহল, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে গড়ে উঠেছে সক্রিয় এক ঠিকাদার সিন্ডিকেট। যাদের বাহিরে কেউ কাজ পান না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সিন্ডিকেটের নেপত্যে স্বয়ং প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ। এছাড়া ঠিকাদার না হয়েও ঠিকাদারের এক প্রতিনিধিকে নিয়মিত প্রধান প্রকৌশলীর অফিস ও বাসভবনে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে দেখা যায়। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
জানা গেছে, প্রায় দশ থেকে পনের জনের একটি সিন্ডিকেট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত টেন্ডার কাজ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের বাহিরে কাউকে কাজ দেওয়া হয় না। চলে বলে কৌশলে ঘুরে ফিরে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব কাজের টেন্ডার পাচ্ছেন। জাফর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এমরান নিয়মিত প্রধান প্রকৌলীর রুমে বসে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার কাজ তাকে দিয়েই করান তিনি। এ কাজ থেকে ভাগ নেন প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আহাদ। এছাড়া কোন ধরনের ঠিকাদারি কাজে সম্পৃক্ত না থেকেও প্রধান প্রকৌশলীর রুমে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকেন জাফর এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি। এ নিয়ে একাধিক ঠিকাদার প্রকৌশল দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক নিহাদ করিমের কাছে অভিযোগ করেছেন। নিহাদ করিম চৌধুরীও প্রধান প্রকৌশলীকে একাধিকবার সর্তক করেছেন। এতে তিনি কর্ণপাত করেননি। এ নিয়ে প্রকৌশল দপ্তরে চলছে স্নায়ুযুদ্ধ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন ঠিকাদার প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবেন না। এছাড়া পিপিআর -২০২৫ অনুযায়ীও ঠিকাদারের কোন প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগ নেই। কিন্তু এ নিয়মের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অফিস ছুটির পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর রুমে প্রতিদিন জাফর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধিকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন ঠিকাদার সিন্ডিকেট।
জাফর এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিনিধি প্রধান প্রকৌলীর রুমে প্রতিনিয়তই বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী আবদুল আহাদ বলেন, প্রতিনিধি হিসেবে তিনি বিভিন্ন কাজে আসেন। কাজ শেষ করে তিনি চলে যান। প্রায় প্রতিদিনই কি তার কাজ তাকে? এমন প্রশ্নের জবাবে আব্দুল আহাদ বলেন, কাজ থাকলে তিনি প্রায় সময় আসেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুয়ায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোন প্রতিনিধি এভাবে প্রধান প্রকৌশলীর রুমে বসার নিয়ম নেই। এর পরেও তিনি কিভাবে বসে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।