মোঃ বাদশা প্রামানিক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও, নীলফামারীর ডিমলায় তা উপেক্ষা করে অনুমোদনহীন বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘটনা ঘটেছে।
সাংবাদিক নির্যাতনের মামলার আসামিদের রক্ষায় এবং জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কটূক্তি করে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন নাউতারা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জামিনুর রহমান জীবন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে ২০-২৫ জনের একটি দল এই ঝটিকা মিছিল বের করে। উল্লেখ্য, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে যে কোনো ধরনের বেআইনি সভা-সমাবেশ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী কর্মসূচির ওপর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচনীকালীন সময়ে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও প্রকাশ্য দিবালোকে এমন কর্মসূচিতে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি)। ওইদিন সন্ধ্যায় নাউতারা ইউনিয়নে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক কালবেলা ও দৈনিক নয়া দিগন্তের দুই সাংবাদিক পরিকল্পিত হামলার শিকার হন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সাংবাদিক মো. রেজোয়ান ইসলাম বাদী হয়ে ডিমলা থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেই যুবদল নেতা জীবনের নেতৃত্বে মিছিলটি বের করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, নীলফামারী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকারের ভাতিজা পরিচয়দানকারী একটি প্রভাবশালী চক্র এবং সাংবাদিক নিগ্রহের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত নাউতারা ইউপি চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ মনির প্রত্যক্ষ মদতে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। সচেতন মহলের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোই এসব কর্মকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে মামলার বাদী জানান, তিনি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করেছেন। শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ এবং নির্বাচন কমিশনের বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন দাবি করেছেন।