মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর প্রথিতযশা সাংবাদিক দৈনিক ইনকিলাবের সাবেক জেলা প্রতিনিধি প্রয়াত মোমিনুল ইসলাম মানুর বাড়ী-ঘর ভাংচুর ও জমি দখল করে প্রাচীর নির্মাণকারী ভুমিদস্যু শহীদুল ইসলাম গংদের গ্রেপ্তার, বিচার ও অবিলম্বে দখলমুক্ত করার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবার।
শনিবার (১৭ জানুয়ারী) বিকেল সাড়ে ৫ টায় রাজবাড়ী শহরের পৌর মিলিনিয়াম মার্কেটের তৃতীয় তলায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিক মোমিনুল ইসলাম মানুর স্ত্রী পারভীন ইসলাম বলেন, আমি প্রয়াত সাংবাদিক মোঃ মোমিনুল ইসলামের অসহায় পরিবার। প্রয়াত মোমিনুল ইসলাম মানু আপনাদের সহকর্মী ছিলেন। গত ২০১৪ সালের ৩০ জুলাই মোমিনুল ইসলাম মৃত্যুবরণ করার পর থেকেই তার ছোট ভাই শহীদুল ইসলাম সহ কতিপয় ব্যক্তি রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা এলাকার পৈত্রিক ভিটা থেকে আমাদেরকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করে আসছে।
তিনি বলেন, আমাদের কোন পুত্র সন্তান না থাকায় স্বামী মোমিনুল ইসলাম মৃত্যুর পূর্বে রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দা নিজ বসত বাড়ীর জমি আমার ও কন্যার নামে রেজিষ্ট্রি দলিল মূলে হেবা করেন। কিন্তুস্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ওই জমি দেবর শহীদুল ইসলাম কতিপয় ব্যক্তির সহায়তায় গ্রাস করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। এ বিষয়ে ২০১৪ সালে রাজবাড়ী থানায় একটি জিডি করি। দেবর শহিদুল ইসলামের অত্যাচারে আমি বেশ কিছুদিন বাড়ী-ঘর ছেড়ে ঢাকায় মেয়ের বাড়ীতে বসবাস করে আসছি। সম্প্রতি শহীদুল ইসলাম আমার নিজ মালিকানাধীন বসত বাড়ীর দুইটি ঘর ভাংচুর করে সকল জমি নিজের দখলে নিয়ে একটি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি সামাজিকভাবে বিষয়টি সমাধানে ব্যর্থ হয়ে গত ৫ জানুয়ারী রাজবাড়ী সদর আমলী আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ৭ ও ৮ ধারা তৎসহ দন্ডবিধি আইনের ৪২৭/৪৪৭/৩২৩/৫০৬/৩৪ ধারায় মোঃ শহিদুল ইসলাম সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা (সি.আর-১৭/২০২৬) দায়ের করি। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি গ্রহণপূর্বক রাজবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতোমধ্যে মামলার মূল আসামী শহীদুল ইসলাম আইনগত বিচার এড়াতে এবং মামলার কার্যক্রম নস্যাৎ করতে বিদেশে (কানাডা) যাওয়ার পাঁয়তারা করছেন। অথচ আমি নিজ বসতভিটা হারিয়ে ধুঞ্চী আত্নীয়ের বাড়ীতে মুসাফিরের ন্যায় জীবনযাপন করছি।
তিনি বলেন, দেবর শহীদুল ইসলাম বিভিন্নভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। এমতাবস্থায় আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে পরিবারের পক্ষ থেকে একজন ভুমিদস্যুর হাত থেকে আমাদের রক্ষার দাবী জানাচ্ছি।
এসময় মেয়ে কানিজ সুবর্ণা, তনিমা ইসলাম, আত্বীয় মোঃ নেছার উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।