জাহেদুল ইসলাম আল রাইয়ান:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিপজ্জনক ও অমানবিক প্রবণতা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে মিসরের দারুল ইফতা। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বন্ধুত্ব বা সম্পর্কের গভীরতা যাচাইয়ের নামে নিজের বা অন্যের শরীরে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা ইসলামী শরিয়তে সম্পূর্ণভাবে হারাম এবং এটি ইসলামের মৌলিক উদ্দেশ্যের সরাসরি লঙ্ঘন।
দারুল ইফতার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু ভিডিওতে দুই ব্যক্তি পরস্পরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকে এবং তৃতীয় একজন তাদের হাতে ফুটন্ত চা ঢেলে দেয়। এই নির্মম আচরণকে তথাকথিতভাবে ‘সহনশীলতা পরীক্ষা’ বা ‘বন্ধুত্ব যাচাই’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে—যে দ্রুত হাত সরিয়ে নেয়, তার বন্ধুত্ব দুর্বল, আর যে তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকে, তার সম্পর্ক নাকি দৃঢ়।
এ ধরনের আচরণকে দারুল ইফতা ইচ্ছাকৃত আত্ম-নির্যাতন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মানুষের জীবন ও শারীরিক নিরাপত্তা রক্ষা ইসলামী শরিয়তের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ইসলাম শুধু জীবনের অধিকার নিশ্চিত করেনি, বরং নিজের দেহকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা প্রত্যেক মানুষের ওপর বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
সংস্থাটি কোরআন ও হাদিসের আলোকে স্পষ্ট করে জানিয়েছে—ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া কোনো প্রাণহানি, আত্মবিনাশ কিংবা নিজেকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ সা. এর সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি—“কোনো ক্ষতি করা যাবে না, আবার ক্ষতির প্রতিশোধও নেওয়া যাবে না”—মুসলমানের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণের মূল মানদণ্ড।
দারুল ইফতা আরও বলেছে, বন্ধুত্ব যাচাইয়ের নামে কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া ধর্মীয়ভাবে যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনি এটি বিবেক, মানবিকতা ও যুক্তিবোধেরও পরিপন্থী। এ ধরনের প্রবণতা শারীরিক নিরাপত্তাকে তুচ্ছ করে এবং তরুণ সমাজকে মারাত্মক দুর্ঘটনা ও স্থায়ী ক্ষতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
বিবৃতির শেষাংশে বিশেষভাবে তরুণদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিত্তিহীন ও ক্ষতিকর ট্রেন্ড থেকে দূরে থাকতে হবে, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে এবং ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলে অবশ্যই অভিজ্ঞ আলেম ও বিশেষজ্ঞদের শরণাপন্ন হতে হবে।
আল্লাহ যেন যুবসমাজকে সকল অকল্যাণ থেকে হেফাজত করেন, কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন এবং দেশ ও জাতির জন্য তাদেরকে শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত করেন—এই কামনাও ব্যক্ত করেছে দারুল ইফতা।
লেখক কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়,কায়রো,মিশর