মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারীর দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপি জোটের ভেতরে ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই জোটে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ দুই আত্মীয়—পিতা ও পুত্র—ভিন্ন ভিন্নভাবে নির্বাচনী মাঠে নামায় জোটের ঐক্য ও কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর প্রভাব পড়েছে বিএনপির সাধারণ ভোটারদের মধ্যে, যারা পড়েছেন চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে।
নীলফামারী-১ (ডোমার–ডিমলা) আসনে বিএনপি জোটের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোনের স্বামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। একই সময়ে নীলফামারী-২ (সদর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েছেন খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে ও অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের পুত্র ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী (তুহিন)।
ফলে জেলার দুই আসনে জিয়া পরিবারের এই পিতা–পুত্রের সমান্তরাল অবস্থান ভোটের রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশের মতে, জোটকে বিপাকে ফেলতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতেই পিতা–পুত্র আলাদা আলাদা কৌশলে নির্বাচনে নেমেছেন।
এতে বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ভোট দেবেন কাকে? জোট মনোনীত প্রার্থী জমিয়তের মহাসচিবকে, নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতিকে?
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জোট সমঝোতার অংশ হিসেবে নীলফামারী-১ আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় নীলফামারী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী করা হয় তারেক রহমানের খালাতো ভাই অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহরিন ইসলাম চৌধুরীকে। এর পরপরই অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম নীলফামারী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি ওই এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেন। তবে একাধিক ভোটারের তথ্যে অসংগতি পাওয়ায় জেলা রিটার্নিং অফিসার তার মনোনয়ন বাতিল করেন। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলে নির্বাচন কমিশনে শুনানি শেষে গত ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম তার প্রার্থিতা ফিরে পান। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই নীলফামারী-১ আসনেই বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন,“প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে আমি লড়ব। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই—এটি আমার জন্য একটি প্রেস্টিজ ইস্যু।”
এদিকে মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে, নীলফামারী-১ আসনে বিএনপির একটি অংশ জোট প্রার্থী জমিয়তের মহাসচিবের পক্ষে থাকলেও আরেকটি অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে করে জোটের ভোট বিভাজনের আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে নীলফামারীর এই দুই আসনে জোটের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত এই পারিবারিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মূল্য কে দেবে—তা জানতে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে জেলার ভোটাররা।