মোঃশহিদুল ইসলাম পিয়ারুল, ময়মনসিংহ সংবাদদাতা:
আর মাত্র বাকী ১৯ দিন। ১২ই ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন সংসদ সদস্য প্রার্থীরা। দীর্ঘ ১৭ বছর চাষাবাদ করা এ আসনটিতে আওয়ামীলীগের ভোট নিয়ে চলছে নানান প্রশ্ন। ৫ই আগস্ট গণঅভূত্থানের মাধ্যমে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীরা কেউ পলাতক, আবার কেউবা জেল হাজতে আছেন। তবে আইনী বাধা থাকায় এ নির্বাচনে অংশগ্রহন গ্রহনের সুযোগ পায়নি আওয়ামীলীগ। ফলে আওয়ামীলীগের ভোটারদেরকে কাজে লাগিয়ে বিজয় নিশ্চিত করতে বিশাল সমীকরণে রয়েছে বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়েত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও গণফোরাম এর প্রার্থী। এ যেন তুরুপের তাঁস।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তোড়জোর প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আলহাজ¦ মো. আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধূরীর পুত্র ইয়াসের খান চৌধুরী (ধানের শীষ), বিএনপি’র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা খুররম খান চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা খান চৌধুরী (হাঁস), জামায়েত সমর্থিত প্রার্থী বাংলাদেশ ডেপেলভমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এড. আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন (ফুলকপি), জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাসমত মাহমুদ তারিক (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই পীর) প্রার্থী মুফতি সাইদুর রহমান (হাতপাখা) ও গণফোরামের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মো. লতিফুল বারী হামিম (উদীয়মান সূর্য)।
এ আসনে মোট ভোটার রয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬৪১ জন। এরই মধ্যে পুরুষ ভোটার আছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৬৯২ জন এবং নারী ভোটার আছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪২ জন ও তৃত্বীয় লিঙ্গের ভোট আছে ৭ জন। এর বিপরীতে ভোট কেন্দ্র আছে ১২১টি। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। কিন্তু বিগত সংসদ নির্বাচনগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এ আসন থেকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা গ্রহন করেছে ৬ বার, বিএনপি ৪ বার ও জাতীয় পার্টি ২ বার। এতে করে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী সহ আওয়ামী সমর্থিত ভোটারদেরকে নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। বিভিন্নভাবে সেসমস্ত ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছে স্ব-স্ব প্রার্থীদের সমর্থনকারীরা। প্রত্যেক দলীয় এমপি প্রার্থী বিশেষ করে বিএনপি, জামায়েত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিজস্ব ভোট রয়েছে। কিন্তু নান্দাইলে মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি’র চারগ্রুপ মিলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরীকে সমর্থন দেওয়ায় হাঁস প্রতীকেও পিছিয়ে নেই। এছাড়া হাতপাখা, জাতীয় পার্টি ও গণফোরামও অবস্থানও সক্রিয় হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবীণ রাজনীতিবিদ জানান, নান্দাইলে আওয়ামীলীগের লক্ষাধিক ভোটার রয়েছে। সেমস্ত ভোটাররা তাদের দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় নীরবতা পালন করছেন। কিন্তু নির্বাচনে তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে, কি না ? তা নিয়ে অনেকটা সংশয়ও রয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী ব্যালটে নৌকা প্রতীক না থাকায় যেকোন প্রতীকে ভোট দেওয়ার অংশগ্রহনেও তাদের তেমন কোন বাধা নেই। এ বিষয়টি কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে আছে নির্বাচনে অংশগ্রহনকারী এমপি প্রার্থীগণ ও তাঁর সমর্থকরা।
নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে জানাগেছে, ৫ই আগস্টের পর থেকে জামায়েত সমির্থত প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে নিজস্ব জনমত তৈরী করতে এখন পর্যন্ত মাঠে রয়েছে। অপরদিকে বিএনপি’র সাবেক চেয়ারপার্সন সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং দলটির চেয়ারপার্সন দেশ নায়ক তারেক রহমানের বাংলাদেশের আসার পর বিএনপি’র ধানের শীষের প্রতি উচ্ছাস বেড়ে গেছে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। তবে সংসদ সসদ নির্বাচনে ধানের শীষ, লাঙ্গল ও হাতপাখা প্রতীক ছাড়া ফূলকপি, হাঁস ও উদীয়মান সূর্য প্রতীকের প্রতি সাধারণ ভোটারদের তেমন ধারণা না থাকলেও ফুলকপি’র ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় নান্দাইলবাসীর নিকট আর অজানা নয়।
এদিকে সাধারণ জনগণের সাথে যোগাযোগ করা হলে শতকরা ৬০ ভাগ ভোটার জানান, “ দল তাদের কাছে কোন মুখ্য বিষয় নয়, যে যোগ্য ব্যক্তি, তাকেই ভোট দিবেন তারা”। এছাড়া অন্যান্যরা বলেন, পূর্বের ন্যায় নির্বাচন হলে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার বিষয়ে সন্দেহ পোষন করেন। তবে সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হলে তাদের কোন আপত্তি নেই। তাছাড়া স্ব-স্ব-প্রার্থীর সমর্থকরা জানান, তাদের সমির্থত প্রতীক ও প্রার্থীর কোন বিকল্প নেই। জয় তাদেরই হবে।
তবে দেখার বিষয় যে, নান্দাইলের আপামর ভোটারদের ভোটে কে হবে বিজয়ী ? কারঁ ভাগ্যের লিখা আছে নান্দাইল আসন থেকে সংসদীয় টিকেট ? তবে নান্দাইলবাসী চায়, একজন সৎ, যোগ্য ও ন্যায়নিষ্ঠাবান প্রার্থী। তাঁরা চায় একজন জনবান্ধব এমপি। যিনি নান্দাইলবাসী ও নান্দাইলের কল্যাণে কাজ করবেন। জনগণের সুখে-দুখে পাশে থাকবেন।