২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ক্ষমতায় এলে বগুড়াকে সিটি করপোরেশন ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

সজীব হাসান, (বগুড়া) প্রতিনিধি:

জামায়াতে ইসলামী জনগণের ভোটে সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীতকরণ, শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন এবং দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের ঘোষণাও দেন তিনি।

শনিবার দুপুরে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া জেলা ও শহর শাখার উদ্যোগে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বগুড়ার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন জুলাই আন্দোলনে জীবনদানকারী বীর শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে সরকার গঠনের সুযোগ দিলে শহীদদের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন আমরা বিভক্ত বাংলাদেশ চাই না। সবাইকে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।

অতীতে যারা ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার লোভ দেখিয়ে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছিল, তাদের পরিণতি মানুষ দেখেছে। এখনো যারা নানা কৌশলে জনগণকে ধোঁকা দিতে চায়, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার পরিচালনার সুযোগ পেলে আর কেউ সরকারি কোষাগার থেকে চুরি করতে পারবে না।

যারা জনগণের টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে, সেই টাকা উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। দেশে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সমাজের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লোকেরা অতীতে কখনো চাঁদাবাজি করেনি, বর্তমানে করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না। আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা হলো, আমরা চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে করতেও দেবো না।

নারীদের নিরাপত্তা ও সম্মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীরা আমাদের মায়ের জাত। তাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা হবে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও যোগ্যতার সঙ্গে দেশ গড়ার কাজে অংশ নেবেন।

তারা নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে চলাফেরা করবেন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে মায়েদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেউ নারীদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে তা বরদাশত করা হবে না।

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আমরা দেশের যুবকদের বেকার অবস্থায় দেখতে চাই না। বেকার ভাতা দিয়ে তাদের অসম্মানিত করতেও চাই না। আমরা যুবকদের হাতকে কারিগরের হাতে পরিণত করতে চাই। প্রতিটি যুবক-যুবতীর হাতে কাজ তুলে দিতে চাই।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

পরে তিনি বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে উপস্থিত জনতার সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেন।

বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপা’র সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top