মো. সাইফুল ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নীলফামারী-০১ (ডোমার–ডিমলা) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচনী তৎপরতায় স্পষ্ট সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ আসনে বিএনপি জোট প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এককভাবে গণসংযোগ চালিয়ে গেলেও জোটের প্রধান শরিক বিএনপির নেতৃস্থানীয় পর্যায়ের কোনো নেতাকর্মীর সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়ছে না।
নির্বাচনী মাঠে কেবল গ্রামগঞ্জের সাধারণ পর্যায়ের অল্পসংখ্যক বিএনপি নেতাকর্মীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও জেলা কিংবা উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতৃত্বের অনুপস্থিতি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জোট প্রার্থীকে মাঠে নামিয়ে দিয়ে বিএনপি কার্যত দৃশ্যপট থেকে অন্তর্ধান করেছে—এমন ধারণাই ক্রমে দানা বাঁধছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি ও এর একাধিক অঙ্গসংগঠনের জেলা কমিটি থেকে ডোমার ও ডিমলা উপজেলার সব স্তরের নেতাকর্মীদের নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশগ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর প্রতিফলন নেই। ফলে বিএনপি ও তার মিত্র জোটের নির্বাচনী সমঝোতা এ আসনে চরম পরীক্ষার মুখে পড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলস্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোর দুর্বলতাও এ সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
দুই উপজেলাতেই বিএনপির কার্যকর কোনো কমিটি না থাকায় দলীয় অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বরং দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতাই দৃশ্যমান বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ আসনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হলো সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন বিতর্ক।
বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাতো ভাই প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন এবং তিনিই ছিলেন বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী। তবে শেষ মুহূর্তে আসনটি জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ায় তিনি প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়েন। পরবর্তীতে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী নীলফামারী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেন।
ডোমার–ডিমলা এলাকায় বিএনপির মধ্যে শাহরিন ইসলাম চৌধুরীর অনুসারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের একটি বড় অংশ জোট প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় না হওয়ায় নির্বাচনী মাঠে জটিলতা আরও বেড়েছে। এ পরিস্থিতিকে ঘিরে আদর্শিক অবস্থান বিসর্জন, নেতৃত্বের সংকট ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগসহ নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, যার রাজনৈতিক খেসারত বিএনপি জোটকে দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি জোট প্রার্থী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আমি ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এ নিয়ে আমি মোটেও বিচলিত নই।”