২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

লালমনিরহাটে নকল সারের রমরমা বাণিজ্য দেখার কেউ নেই, দেশটা যেন মগেরমুল্লুক

রবিউল ইসলাম বাবুল, রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটে সারের বাজারে চরম নৈরাজ্য, কৃষকের নাগালের বাইরে দাম, ডিলারদের কাছে রহস্যজনকভাবে সারের সংকট—এর মধ্যেই লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নকল সার মজুদ ও বিক্রির দায়ে এক সার ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে ৩১ বস্তা নকল সার জব্দ করা হলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এই একটি অভিযানেই কি থেমে যাবে দীর্ঘদিনের গড়ে ওঠা সারের কালোবাজারি? না-কি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সূকৌশলে ভদ্রবাবুদের ম্যানেজ করে রাতা-রাতি বনে যাবে আঙ্গুল ফুলে গলাগাছ – এদিকে কৃষের হবে সর্বনাশ ! ”

বুধবার দুপুরে আদিতমারী উপজেলা রেজিস্ট্রি অফিস সংলগ্ন এলাকায় ভ্রাম্যমান আদলত পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম। তিনি অভিযানে বিএডিসি বীজ ও সার ব্যবসায়ী আবদুর রহমানের দোকান থেকে নকল ও অবৈধভাবে মজুদকৃত সার উদ্ধারের পর তাকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১৭(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নকল ও ভেজাল সার বিক্রির অভিযোগ করে আসছিলেন স্থানীয় কৃষকরা। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তিনি এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সর্বশেষ অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে অভিযানের খবরে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও ক্ষোভ এখনো তীব্র। কৃষকদের অভিযোগ, আদিতমারীতে সারের দাম কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে। টি,এস,পি সার ডিলারের কাছে গেলে বলে নেই। খুচরা দোকানে গেলে ২৪ থেকে ২৮ শত টাকায় সার বিক্রয় করেন তারা।

অন্য দিকে সরকার অনুমোদিত ডিলার পর্যায়ে সার নিতে গেলে কৃষকগন সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে চড়াদামে সার ক্রয় করেন, ফসল বাঁচানোর জন্য। নিরুপায় হয়ে কৃষকগন বেশী দামে সার ক্রয় করতে বাধ্য হন।

জেলা উপজেলা কৃষি অফিসের সঠিক তদারকি না থাকা,সময় মতো জেলার কর্মরত উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন মাঠ পর্যায়ে না যাওয়া, ডিলারদের তদারকি না করা,নামমাত্র রেজিস্ট্রার বহিতে সহি করে লোক দেখানো কাজে তারা মগ্ন থাকেন। ফলে এ ধারণের অসৎপন্থায় ডিলারগন বেশীদামে অন্যত্র সার বিক্রয় করে দেন। ফলে সময়ের আগে সার শেষ হয়। এদিকে কৃষক সার নিতে গেলে ডিলারের কাছে সার পায় না। বলে সার শেষ।

এই যখন অবস্থা তখন নামমাত্র অভিযান বা জরিমানায় কি থামবে দীর্ঘ দিনের এ দূর্নীতি এই শক্ত সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেট ভাঙ্গা- তো দূরের কথা প্রসাশনের হলুদ সংকেতে আরও সুদৃঢ় হবে এই সিন্ডিকেট বলে মনে করছেন লালমনিরহাট জেলার কৃষককূল।

আবার কৃষক পর্যায় থেকে যদি কেউ উপজেলা বা জেলা কৃষিকর্মকর্তাদের সার বেশী দামে বিক্রয় করার কথা ও খুচরা সার বিক্রেতাগন সার বিক্রয় করছে চড়াদামে তা- জানালে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এ্যাসিল্যান্ড স্যারকে বলে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি সব সময় যেতে পারেন না তাই কিছু করা যায়না সময় মতো। এভাবেই চলে তাদের লীলাকৃত্তন।

আবার রাম লীলার জন্য মনে হলে ৩/৪ মাসে এদিক সেদিক দু একটা অভিযান চালিয়ে ক্লান্ত হযে পরেন তাই রেস্টে থাকেন। আবার তাদের কথার বাহিরে যারা আঙ্গুল ঘুড়ায় তাদের জরিমানা করা হয়। এই যখন অবস্থা তখন কৃষককূল কিভাবে রবি মৌসূমে শস্য চাষাবাদ করবে তা- নিয়ে কৃষকের মনে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

আদিতমারী উপজেলার চরিতাবাড়ী এলাকার কৃষক বলেন, সার কিনতে গেলে ডিলারগন বলে সার নেই, আবার খুচরা বাজারে সেই সারই দেড় গুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। আমি আলু রোপনের সময় টি,এস,পি, সার ৩ হাজার দুইশত টাকা দরে কিনে আলু রোপন করেছি।

এদিকে কৃষকদের আরও অভিযোগ রয়েছে বলে জানান জেলার বেশ কৃষক। জেলা উপজেলা কৃষি অফিস ও প্রশাসনের তদারকি কার্যক্রম অনেকটাই নামমাত্র। সারা জেলা ও উপজেলায় তিন থেকে চার মাসে একবার করে একটি অভিযান পরিচালিত হয়—যা অনেকের চোখে ‘লোক দেখানো’। এসব অভিযানে সাধারণ বা ছোট ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

একজন ক্ষুব্ধ কৃষক বলেন, “সার না পেয়ে আমরা নাভিশ্বাস ফেলছি। বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, জমি পড়ে থাকছে। অথচ যারা বড় বড় গুদামে সার মজুদ করে কালোবাজারি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ ব্যবস্থা নেয় না।” কেনো ? তখন কৃষিকর্মকর্তার কি গাড়ীতে তেল থাকে না ??

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম মুঠোফোনে বলেন, কৃষকের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কি ভাবছেন ভাই শুনলেনতো তিনি কি বলেছেন ? তাহলে কেনই- বা হঠাৎ ডিলারগন হচ্ছেন আঙ্গুল ফুলে গলাগাছ, আর কৃষকের হচ্ছে সর্বনাশ !!

এই অবস্থার ফলে গোটা জেলার কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী মিলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিয়মিত কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। ফলে সঠিক সময়ে সার পাচ্ছে না কৃষক। আর এদিকে সেই সুবিধা নিয়ে ঐ সকল অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে ।
তাদেরকে কে দেখবে কে রুখবে। টাকাই যখন বড় সমস্যার সমাধান হয়, তখন নামমাত্র লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করে কি লাভ ??

এ ব্যপারে লালমনিরহাট জেলা উপ-পরিচালক সাইখুল আরেফিন সঙ্গে মুঠোফোন আলোচনা হলে তিনি দৈনিক আমার বাংলাদেশ সাংবাদিক কে বলেন,বর্তমান বাজারে ,সারের কোনো সংকট নেই। কিন্তু কৃষক বাজারে গেলে সার নেই বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন। ঢাল তলোয়াড় নেই নিধিরাম সর্দার সেজে শতশত খুচরা ব্যবসায়ী কার ইশারায় প্রকাশ্যে বেশী দামে সার বিক্রয় করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন, এ কথার জবাব কে দেবে জাতি জানতে চায় ??

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—একটি জরিমানা আর একটি দোকানে অভিযানেই কি থামবে সারের ভয়াবহ এই সংকট ও ভেজাল বাণিজ্য? নাকি হেভিওয়েট দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের অদৃশ্য ছত্রচ্ছায়ায় কৃষকের দুর্দশা আরও দীর্ঘ হবে না-কি সরকারী গাড়ীর তেল ব্যবহার করার জন্যই জেলায় টহল চলবে জেলা উপজেলায় এ প্রশ্ন প্রধান উপদেষ্টার কাছে রয়ে গেল ??

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top