৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১১ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজবাড়ীতে চত্রা নদীর পাড় লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণে উত্তেজনা ॥ কাজ বন্ধ

মোঃ আমিরুল হক, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে চত্রা নদীর পাড় লীজ নিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রশাসন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এদিকে মোটা অংকের অর্থ দিয়েও লীজ না পেয়ে ফেরত চেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখাযায়, বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া বাজার স্লুইচ গেইটের সাথে মুনছুর আলী কলেজের সামনে চত্রা নদীর মধ্যে ইট দিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণের জন্য ইট গাঁথা হয়েছে। তবে ২দিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চত্রা নদীর পাড় দীর্ঘদিন ধরে মুনছুর আলী কলেজ ভোগদখল করলেও এক সপ্তাহ আগে সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু করে আনোয়ার হোসেন এছো নামে এক ব্যক্তি। তার আগে সেখানে থাকা কয়েকটি গাছ কর্তন করে। পরে উপজেলা প্রশাসন গাছগুলো জব্দ করে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। গত মঙ্গলবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয়রা পরিমাপের ব্যবস্থা করলে শুরু হয় উত্তেজনা। এতে কাজ বন্ধ করে দিয়ে যায়। যেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ করা হচ্ছে, এতে স্লুইচ গেইটের সমস্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চুক্তিপত্র ও লীজের কাগজ সুত্রে জানাগেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন চত্রা নদীর ৬শতাংশ জমি লীজের জন্য ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর নারুয়া গ্রামের সোরাপ হোসেন মোল্যার ছেলে মোঃ আলতাফ হোসেন, মৃত আছমত আলী শেখের ছেলে যুবলীগ নেতা মোঃ গণি শেখ, বাকসাডাঙ্গী গ্রামের মৃত একদিল মোল্যার ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা রুস্তম আলী আবেদন করেন। তাদেরকে ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারী এক বছরের জন্য লীজও প্রদান করা হয়। এদিকে, আগের লীজ গ্রহিতাদের বাদ দিয়ে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর বাকসাডাঙ্গী গ্রামের মনছের শেখের ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেনের নামে ৬শতাংশ জমি লীজ প্রদান করে চুক্তিপত্র করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তাজমিনুর রহমান।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আগে এক বছরের জন্য লীজ প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে তাদেরকে না দিয়ে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে লীজের ব্যবস্থা করে দেন রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী রাজস্ব অফিসার মোঃ সোহেল রানা। এ নিয়ে পুর্বের লীজ গ্রহিতাদের ৩লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও একাধিকবার শালিসের পরও টাকা ফেরত দিচ্ছে না। প্রতিনিয়তই তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকট ধর্ণা দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী রাজস্ব অফিসার মোঃ সোহেল রানার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন ও ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তাজমিনুর রহমান বলেন, ৩জনকে এক বছরের জন্য লীজ প্রদান করা হয়। ওই লীজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় অন্যদেরকে লীজ দেওয়া হয়েছে। তবে অবৈধ ভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। জানতে পেরে লিখিত ভাবে বালিয়াকান্দি থানায় কাজ বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একজন ব্যক্তি এসেছিলেন, তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। তবে তিনি প্রথম এ কথা শুনেছেন। লীজ দেওয়ার নামে কেউ যদি টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top