মোঃ নাঈম মল্লিক, ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজী। তিনি ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজীর জন্ম ১৯৭৪ সালের ৬ আগস্ট ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নে। তাঁর পিতা ড. এ কে এম আব্দুল হাকিম এবং মাতা ফিরোজা বেগম। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাদামাটা ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘদিনের আইন পেশায় ব্যারিস্টার ফিরোজী বাংলাদেশের সংবিধান ও বিচারব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঐতিহাসিক ‘মাসদার হোসেন মামলা’-তে তাঁর সম্পৃক্ততা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের সঙ্গে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী সংক্রান্ত মামলায় কাজ করেন, যেখানে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নটি উঠে আসে। সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনী (জরুরি ক্ষমতা) মামলায় তিনি প্রধান কৌশলী (লিড কাউন্সেল) হিসেবে জরুরি ক্ষমতার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানান। পাশাপাশি বিচারক অপসারণ সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী মামলাতেও তিনি অন্যতম প্রধান আইনজীবী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
আইন পেশার বাইরে শিক্ষা ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান রয়েছে। তিনি নিউক্যাসল ল একাডেমি এবং লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ (সাউথ)-এ ইংরেজ সাংবিধানিক আইন পাঠদান করেছেন। এছাড়া ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
সমাজসেবামূলক কাজেও ব্যারিস্টার ফিরোজীর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর আইনি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও আজীবন সদস্য। একই সঙ্গে সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর একজন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ স্কাউটসের ডেপুটি ন্যাশনাল কমিশনার (আইন) হিসেবে তিনি টানা নয় বছর দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রেসিডেন্টস স্কাউটস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে, গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে তাঁকে মনোনীত করা হয়।
শিক্ষাজীবনে ব্যারিস্টার মঈন আলম ফিরোজী যুক্তরাজ্যের উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিবাহিত।