৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

বগুড়ার নন্দীগ্রামে ইউএনওকে ‘জিম্মি’ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্ধার মহড়া

সজীব হাসান (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরাকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা জিম্মি করেছে—এমন এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে।

খবর ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে থমথমে হয়ে ওঠে উপজেলা পরিষদ চত্বর। সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে নন্দীগ্রাম ৪০ বীর সেনা ক্যাম্পের চৌকস সেনাবাহিনীর একটি দল।

চারদিক ঘিরে কৌশলগত অবস্থান নেয় যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুরু হয় সাইরেন, দৌড়ঝাঁপ ও অস্ত্রধারী সদস্যদের তৎপরতা। পরে কমান্ডো কৌশলে অভিযান চালিয়ে ‘দুর্বৃত্তদের’ আটক এবং ইউএনওকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

তবে কিছুক্ষণ পর জানা যায়, পুরো ঘটনাটি বাস্তব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর একটি পরিকল্পিত মহড়ার অংশ ছিল এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই মহড়ায় পরিকল্পিতভাবে ইউএনও কার্যালয়ে ‘দুর্বৃত্ত প্রবেশ’ ও ‘জিম্মি পরিস্থিতি’ তৈরি করা হয়। মহড়ার সময় উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়।

অনেকেই প্রথমে ঘটনাটিকে বাস্তব ভেবে আতঙ্কিত হলেও পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা কিংবা জিম্মি পরিস্থিতির মতো গুরুতর ঘটনা মোকাবিলায় বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি যাচাই এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করতেই এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। মহড়ায় নন্দীগ্রাম ৪০ বীর সেনা ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা অংশ নেন।

জিম্মি উদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ—এসব সক্ষমতা যাচাই ছিল মহড়ার মূল লক্ষ্য। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মহড়া বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করে।”

ফেসবুকে আমরা

মন্তব্য করুন

guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বাাধিক পঠিত নিউজ

Scroll to Top